জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হিম উৎসবে আল কোরআনের সূরা নাসের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির প্রতিবাদে সূরা আন-নাসের তাফসির ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের আয়োজনে এ তাফসির ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ আল মাহাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূরা আন-নাসের তাফসির, নাজিলের প্রেক্ষাপট ও এর তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সূরা আন-নাসের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন দাওয়াতুল হক একাডেমির পরিচালক মাওলানা আকরাম। তিনি বলেন, "সূরা আন-নাস এমন একটি সূরা, যা দোয়া হিসেবে কাজ করে। সব ধরনের অনিষ্ট থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় এই সূরার মাধ্যমে। কিন্তু হিম উৎসবে একজন বাউল শিল্পী এ সূরাকে নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং ভুলভাবে তেলাওয়াত ও ব্যাখ্যা করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক সাভার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব শায়েখ ইয়াহিয়া ত্বকী বলেন, ‘সূরা ফালাক ও সূরা নাস কুরআনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শয়তানের ফেতনা ও সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য এই দুই সূরার মাধ্যমে দোয়া করতে বলা হয়েছে। কিন্তু হিম উৎসবে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কোরআন অবমাননার শামিল। এর প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।’
তিনি অভিযোগ করেন, কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে জাবির শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিলেও একদল শিক্ষার্থী মব পরিস্থিতি তৈরি করে ওই বাউল শিল্পীর কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে আয়োজিত হিম উৎসবে পালাগানের একটি পরিবেশনায় কুরআনের সূরা নাসের ব্যাখ্যায় বিকৃতি ঘটিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ ওঠে।
এনএইচ/