বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা রাজশাহীতে ট্রাক-মাহিন্দ্রা মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ ‘যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে গর্বের বিষয়’ অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র ‘সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে, ২৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি খেলাফত মজলিস ইউকে সাউথ শাখার তরবিয়াহ মাহফিল অনুষ্ঠিত সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৭ দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন উত্তাল ছিল রাজধানী,পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তার একমাত্র সন্তান সোহেল। ঘটনার পরপরই পাওয়া যায়নি মরদেহ।

অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয় তাকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। কিন্তু সেই খবর জানা ছিল না মায়ের।

মায়ের কাছে ছিল না কোনো কবরের ঠিকানা, ছিল না ফরেনসিক রিপোর্ট কিংবা প্রশাসনিক কোনো প্রমাণ। বুকভরা শূন্যতা আর সন্তানের শেষ চিহ্ন খোঁজার আকুতি নিয়েই তিনি নিয়মিত যেতেন রায়ের বাজারে।

ওই মা বলতেন, স্বপ্নে তিনি দেখেন—একটি গাছের নিচে তার সন্তানের কবর। বাস্তবেও রায়েরবাজারে একটি গাছের নিচে থাকা একটি অচিহ্নিত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। শুধু বিশ্বাস ছিল—এখানেই শুয়ে আছে তার সন্তান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সেই বিশ্বাসই বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মরদেহ থেকে সিআইডি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় শহীদ সোহেলের কবর। আশ্চর্যজনকভাবে, যে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মা নিয়মিত কাঁদতেন, সেখানেই মিলেছে তার সন্তানের মরদেহ।

সিআইডির ফরেনসিক তথ্যের সঙ্গে মায়ের দেওয়া বর্ণনা হুবহু মিলে যায়। সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো.সিবকাতুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, ওই মা নিয়মিত সিআইডিতে এসে সন্তানের কবরের বর্ণনা দিতেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—সন্তানকে হারানো এক মায়ের অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো।

একটি মা, একটি বিশ্বাস—আর রাষ্ট্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে মিলল নিখোঁজ সন্তানের শেষ ঠিকানা।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ