শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৬ পৌষ ১৪৩২ ।। ২১ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইসিতে ৬৪৫ আপিল, শুনানি আজ থেকে বিশ্বজয়ী ও কৃতি হাফেজদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্মৃতির পাতায় হজরত মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)-এর শেষ দরস তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় জমিয়তের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘর্ষে বাসের ভেতরে মোটরসাইকেল, নিহত ২ রাজধানীতে ভয়াবহ গ্যাস সংকট, কেন ঢাকার বহু এলাকায় গ্যাস নেই? আগামী নির্বাচন ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে: ফাওজুল কবির খান স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই ভারতে এবার পশু চুরির অপবাদে মুসলিম ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের গাইডলাইন’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন উত্তাল ছিল রাজধানী,পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তার একমাত্র সন্তান সোহেল। ঘটনার পরপরই পাওয়া যায়নি মরদেহ।

অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয় তাকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। কিন্তু সেই খবর জানা ছিল না মায়ের।

মায়ের কাছে ছিল না কোনো কবরের ঠিকানা, ছিল না ফরেনসিক রিপোর্ট কিংবা প্রশাসনিক কোনো প্রমাণ। বুকভরা শূন্যতা আর সন্তানের শেষ চিহ্ন খোঁজার আকুতি নিয়েই তিনি নিয়মিত যেতেন রায়ের বাজারে।

ওই মা বলতেন, স্বপ্নে তিনি দেখেন—একটি গাছের নিচে তার সন্তানের কবর। বাস্তবেও রায়েরবাজারে একটি গাছের নিচে থাকা একটি অচিহ্নিত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। শুধু বিশ্বাস ছিল—এখানেই শুয়ে আছে তার সন্তান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সেই বিশ্বাসই বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মরদেহ থেকে সিআইডি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় শহীদ সোহেলের কবর। আশ্চর্যজনকভাবে, যে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মা নিয়মিত কাঁদতেন, সেখানেই মিলেছে তার সন্তানের মরদেহ।

সিআইডির ফরেনসিক তথ্যের সঙ্গে মায়ের দেওয়া বর্ণনা হুবহু মিলে যায়। সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো.সিবকাতুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, ওই মা নিয়মিত সিআইডিতে এসে সন্তানের কবরের বর্ণনা দিতেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—সন্তানকে হারানো এক মায়ের অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো।

একটি মা, একটি বিশ্বাস—আর রাষ্ট্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে মিলল নিখোঁজ সন্তানের শেষ ঠিকানা।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ