সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিশ্বজয়ী দুই হাফেজকে বরণ করলো আওয়ার ইসলাম ​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাক্ষ্য দিলেন সাধারণআলেম সমাজের মুখপাত্র  খাদিজা (রা.) ও বরকতময় সংসার গুম-খুনের শিকারদের জন্য হচ্ছে আলাদা অধিদপ্তর মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র দাখিল করলেন জহির উদ্দিন স্বপন কওমি শিক্ষার্থীদের আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ বিষয়ে পড়ার সুযোগ হেফাজতের সন্দেহ দূর করতে আলেম-উলামাদের সঙ্গে কথা বলব: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন রাহুল গান্ধীর সভায় ১০ কোটি রুপি খরচের অভিযোগ বিজেপির

বিশ্বমঞ্চে কোরআনের আলোয় বাংলার মানচিত্র আলোকিত করেছেন যারা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| ইমরান ওবাইদ ||

পবিত্র কোরআনুল কারিম—আল্লাহ প্রদত্ত মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য তা নাজিল করেছেন। পবিত্র এই গ্রন্থ আসমানি ৪ গ্রন্থের মধ্যে ৪র্থ। পূর্বের তিন আসমানি গ্রন্থ তাদের জাতি নিজেদের স্বার্থানুযায়ী বিকৃত করে ফেলেছে। শুধু আমাদের কুরআনই এমন, যার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বিকৃত না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এই কোরআন আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক। (সুরা হিজর: ৯)

আল্লাহ তায়ালার এই সংরক্ষণ পদ্ধতি অনেক। তার মধ্যে অন্যতম হলো হাফেজে কুরআন। কোটি কোটি মানুষ আল্লাহ তায়ালার পবিত্র এই কোরআন হুবহু নিজেদের অন্তরে ধারণ করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বজয়ী হাফেজগণ। যারা একই সঙ্গে পবিত্র কোরআনের সংরক্ষণ করেছে, পাশাপাশি বিশ্বদরবারে দেশের নামও উজ্জ্বল করছে।

বিশ্বজয়ী বাঙালি হাফেজদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

১. হাফেজ ক্বারী নাজমুল হাসান: ২০১২ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৫ম স্থান এবং ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৪র্থ স্থান অর্জন করেন।

২. হাফেজ নাজমুস সাকিব: ২০১২ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ২৭টি দেশের হাফেজদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৩ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৮৬টি দেশের সঙ্গে লড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৪ সালে অর্জন করেন পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার। এ ছাড়াও ২০১৫ সালে ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতা ও সুদানের রাজধানী খার্তুমে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা মহাদেশ কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন কোরআনের এই তারকা।

৩. হাফেজ সাআদ সুরাইল: ২০১২ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

৪. হাফেজ মোহাম্মদ তানভির: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই হাফেজ ২০১২ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বাদশা আবদুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা গ্রুপে প্রায় ৭৩টি দেশের হাফেজদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

৫. হাফেজা ফারিহা তাসনিম: খুদে হাফেজা ফারিহা তাসনিম ২০১৩ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গার্লস হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় ৪৩টি দেশের হাফেজাদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

৬. হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন: ২০১৪ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৫ সালে মিসরের রাজধানী কায়রোতে ৫৫টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২৪তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। তা ছাড়া ২০১৬ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় এবং ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর সৌদি আরবের বাদশা আব্দুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮১টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ মামুন।

৭. হাফেজ মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন: ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর সৌদি আরবে বাদশা আব্দুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হাফেজ মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

৮. হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া: ২০১৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ১৯তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮০টি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। ২০১৬ সালে বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কেরাত ও হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তা ছাড়া ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি সুদানে অনুষ্ঠিত অষ্টম খার্তুম ইন্টারন্যাশনাল কোরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় তাহফিজ ও তাফসির উভয় বিভাগে বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া।

৯. হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি: ২০১৫ সালে জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৬ সালে বাহরাইনে তৃতীয় স্থান ও ২০১৭ সালে কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৫ জুন জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত ২৭তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় ৬২টি দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে লড়াই করে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১০. হাফেজা রাফিয়া হাসান জিনাত: হাফেজা রাফিয়া হাসান জিনাত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘ফাতেমা বিনতে মোবারক’ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ৮৩টি দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নবম স্থান অর্জন করেন। তা ছাড়া ২০১৬ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে নারী হাফেজদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান লাভ করেন।

১১. হাফেজ ইয়াকুব হোসাইন তাজ: হাফেজ ইয়াকুব হোসাইন তাজ ২০১৭ সালে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল জিম টিভির কেরাত ও হিফজ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে ২৮টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এর আগে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৯৬টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নিয়ে পঞ্চম স্থান লাভ করেন।

১২. হাফেজ তরিকুল ইসলাম: হাফেজ তরিকুল ইসলাম ২০১৭ সালের ১৫ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) অনুষ্ঠিত ২১তম হলি কোরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩টি দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হাফেজদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৩. হাফেজ মুহাম্মদ শিহাব উল্লাহ: ২০১৯ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের খুদে হাফেজ মুহাম্মদ শিহাব উল্লাহ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১০৩টি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে এ গৌরব অর্জন করেন তিনি। সৌদি বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে তার ভাই ও মক্কা মুকাররমার গভর্নর আমির খালিদ আল-ফায়সাল পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। শিহাব উল্লাহ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। বাবার নাম নেয়ামতুল্লাহ মাহবুব।

১৪. হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম: ২০২২ সালে সৌদি আরবে ৪২তম আন্তর্জাতিক বাদশাহ আব্দুল আজিজ কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১টি দেশের মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করেন।

১৫. হাফেজ ক্বারী আবু রায়হান: তিনি ২০১৮ সালে কাতারের তিজান আন-নূর আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা প্রথম স্থান অর্জন করেন। এবং ২০২৪ সালে সেনেগালে কুুুরআন প্রতিযোগিতা প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৬. হাফেজ আনাছ মাহফুজ: তিনি ২০২৪ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন করেন।

১৭. হাফেজ বশির আহমদ: ২০২৪ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৮. হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ: ২০২৪ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৯. হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া: ২০২৬ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করেন।

২০. হাফেজ মো. মাহমুদুল হাসান আশরাফী: ২০২৬ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা গ্রুপে ৩য় স্থান অর্জন করেন।

২১. হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ: ২০২৬ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা গ্রুপে ৩য় স্থান অর্জন করেন।

২২. হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান: ২০২৬ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বিভাগে ৩য় স্থান অর্জন করেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ