মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ।। ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৭ সফর ১৪৪৮


‘হিজবুল বাহারের জাকাত’ নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শরিয়তসম্মত নয়: মারকাযুদ দাওয়াহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে কতিপয় পীর বা বুজুর্গের অনুসরণে ‘হিজবুল বাহারের জাকাত’ নামক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনকে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘বেদআত’ ও বর্জনীয় বলে আখ্যায়িত করেছে দেশের দীনি শিক্ষা ও গবেষণার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকার ফতওয়া বিভাগ।

সম্প্রতি মাগুরা থেকে মুহাম্মদ শামীম হোসাইন নামের এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে ফতওয়া বিভাগ এই মত প্রদান করে। প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছিলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে কোনো নির্দিষ্ট ওজিফাকে কেন্দ্র করে সম্মিলিত রোজা, ইতিকাফ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের পক্ষে কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোনো দলিল আছে কি না এবং এ ধরনের আয়োজনের বিধান কী।

এর উত্তরে মারকাযুদ দাওয়াহর ফতওয়া বিভাগ জানায়, ‘হিজুবুল বাহার’ কুরআন বা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত কোনো ওজিফা নয়। তাছাড়া, কোনো ওজিফা বা দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে রোজা বা ইতিকাফ করার কোনো প্রমাণ শরিয়তে নেই।

ফতোয়ায় আরও বলা হয়: কোনো ওজিফার জন্য ‘জাকাত’ নামে কোনো আমল বা অনুষঙ্গ পালনের বিধান শরিয়ত দেয়নি।

নির্ধারিত কোনো আমল বা ওজিফার জন্য লোকজন জমায়েত করা মাকরুহ।

যেসব ওজিফার জন্য শরিয়ত কোনো সময় বা পদ্ধতি নির্ধারণ করেনি, সেসবের জন্য নিজস্ব সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা ‘বেদআত’।

কোনো মুবাহ (বৈধ) আমল যদি এমনভাবে আদায় করা হয় যে, সাধারণ মানুষ একে সুন্নাত বা শরয়ি মুস্তাহাব মনে করার আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে তা মাকরুহ।

ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশ্নোল্লিখিত প্রথা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয় এবং তা বন্ধ করা জরুরি। বিভিন্ন বাহানা বা তাবিল বের করে একে জায়েজ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এগুলো শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘গোমরাহি’ বা ভ্রান্তির পথ খুলে দেয়। বুজুর্গদের ব্যক্তিগত আমলকে সম্মিলিত কোনো প্রথায় রূপ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ