মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ।। ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৭ সফর ১৪৪৮


কেন প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বর্জন, কী বলছে জমিয়ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আমন্ত্রণে শরিক দল ও সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির দীর্ঘদিনের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির এ সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিমান ও জোটে নিজেদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হওয়ার ক্ষোভ কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন দলটির একাধিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিতব্য এ নৈশভোজে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে অংশ নিচ্ছেন না।

জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই তারা এ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তবে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ তিনি প্রকাশ করেননি।

তবে দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের সম্পর্ক আগের মতো নেই। সরকার গঠনের পর জোটের অন্যতম শরিক হওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

জমিয়তের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ হলে তারা দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের সময় তারা ছয়টি নীতিগত শর্ত দিয়েছিলেন এবং বিএনপি সেগুলো মেনে নিয়েছিল। এসব শর্তের মধ্যে ছিল—রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা, সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, শরিয়াবিরোধী আইন না করা, শিক্ষার সব স্তরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামি শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষিতদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, এসব শর্তের কোনোটিই জমিয়তের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছিল না; বরং জাতীয় ও ধর্মীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই সেগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল।

জমিয়তের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সমঝোতা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অভিমান তৈরি হয়েছে। নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপিকে সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা বৈঠক হয়নি। জোটের অন্য শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও জমিয়তকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ