রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ।। ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৭ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আমিরাত-কুয়েতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী ঢাকায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকালে ইসলামি দলগুলোর শোক চট্টগ্রামের বন্যায় ঘরহারা ৩০০ পরিবারকে ঘর করে দেবে আস-সুন্নাহ জোট মানে নীরব সমর্থন নয়, সরকার ভুল করলে প্রতিবাদ করব: জমিয়ত মহাসচিব দাওরায়ে হাদিসের ‘তাকরির’ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার জরুরি নির্দেশনা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন স্থগিত

জোট মানে নীরব সমর্থন নয়, সরকার ভুল করলে প্রতিবাদ করব: জমিয়ত মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট মানে সরকারের সব সিদ্ধান্তে নীরব সমর্থন নয়; বরং ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুলের সমালোচনা—দুটিই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক নীতির অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

আওয়ার ইসলামকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বিএনপির সঙ্গে চারটি আসনে নির্বাচনি সমঝোতা করা হয়েছিল। বাকি আসনগুলোতেও দলটি বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। তবে সেই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে, সরকার কোনো ভুল করলে জমিয়ত প্রতিবাদ করতে পারবে না।

মাওলানা আফেন্দী বলেন, আমরা ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলব—এটাই আমাদের নীতি। বিএনপির ভালো কাজকে সমর্থন করব, আবার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে কিংবা ভুল করলে তারও সমালোচনা করব।

নির্বাচনে চারটি আসনেই পরাজয়ের বিষয়ে আফেন্দী বলেন, বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা এবং সে সময়কার প্রশাসনিক বাস্তবতাসহ বিভিন্ন কারণ তাদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

বিএনপি সরকার গঠনের পর জমিয়তের কোনো প্রতিনিধি সরকারে না থাকলেও এটিকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন না বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, জমিয়তের লক্ষ্য কখনোই পদ-পদবি লাভ ছিল না; বরং মাদরাসা, মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল নির্বাচনি সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য।

ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি ঘরানার দলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক জোট গঠনের পক্ষে তারা ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে কোনো জোটে যাওয়ার প্রশ্নে তাদের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জমিয়তের মহাসচিব জানান, দলটি আপাতত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর শাখাগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই জমিয়ত এ দাবির পক্ষে রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাওলানা আফেন্দী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কিছু প্রশাসনিক উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারকে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ইসলামি রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, আদর্শগত মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন রেখে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংকীর্ণতা ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জমিয়তের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ছাত্র ও যুব জমিয়তের কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

[বিস্তারিত সাক্ষাৎকারটি পড়তে চোখ রাখুন আওয়ার ইসলামে]

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ