রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ।। ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ ।। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৩৩৬, এখনো নিখোঁজ ২৭৯ বিজয়ের মাসে বিএনপির ‘মশাল রোড শো’ স্থগিত ভোটের মাঠে আলেম-উলামা ও ধর্মীয় প্রভাবশালী প্রার্থী কেন দরকার? শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সংস্কারও জরুরি: মাওলানা সৈয়দ আসজাদ মাদানী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শেরপুর জেলা শাখা পুনর্গঠন খুলনায় ৮ দলের সমাবেশের সভাপতি পীর সাহেব চরমোনাই, প্রধান অতিথি জামায়াত আমির অস্ট্রেলিয়ার মাঝ আকাশে ২ বিমানের সংঘর্ষ, পাইলট নিহত মিউজিক, ক্লাব-স্ক্রিনে ডুবে থাকা প্রজন্ম কি সত্যিই নবীপ্রেমের দাবিদার? ‘সুন্নাত অনুসরণ ছাড়া খাঁটি মুসলমান হওয়া সম্ভব নয়’ ভারতীয় আদালত মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে: মাওলানা মাহমুদ মাদানী

ভোটের মাঠে আলেম-উলামা ও ধর্মীয় প্রভাবশালী প্রার্থী কেন দরকার?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||মুফতি এনায়েতুল্লাহ||

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর বাইরে অনেক আলেম, পীর, ওয়ায়েজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক।

ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মঝে ঐক্য জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন দাবিতে পর্যায়ক্রমে অভিন্ন, যুগপৎ ও সম্মিলিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে তারা। ‘ইসলামি দলগুলোর ভোট একবাক্সে’ আনার টার্গেটের অংশ হিসেবে সব আসনে একক প্রার্থী ঠিক করতে চায় তারা। এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রায় এক বছর আগে সারাদেশে প্রাথমিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রায় সব আসনেই হাতপাখার প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত ২৫৮ আসনে দেয়াল ঘড়ির প্রার্থী ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে এ পর্যন্ত ২৭৪ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বেশ কিছুসংখ্যক আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টি। মরহুম শফিউল আলম প্রধান প্রতিষ্ঠিত জাগপা থেকে প্রাথমিকভাবে সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ফুল কপি প্রতীক) এখন পর্যন্ত দুটি আসনে প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে।

এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রায় দেড় শ’ আসনে খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আরও কয়েকটি ইসলামি দলের প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেম-উলামা, মাদরাসার মুহতামিম, মসজিদের ইমাম-খতিব, পীর-মাশায়েখ, ধর্মীয় বক্তা, ইসলামি স্কলার ও প্রভাবশালী আলেম কিংবা আলেমের সন্তান স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছেন।

জোটের অংকসহ নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে হয়তো প্রার্থীর সংখ্যা শেষ মুহূর্তে সংখ্যা কমে যাবে, কিন্তু নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে যেভাবে ভোটের মাঠে আলেম-উলামারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা নিঃসন্দেহে আশাব্যাঞ্জক। তাদের কেউ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও পরবর্তীতে স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে হয়তো সুযোগ পাবেন, অর্থাৎ ভোটের মাঠেই তারা থাকবেন। আমি চাই, প্রত্যেক আসনে ইসলামি দলগুলোর প্রতিনিধি থাকুক, এক বা একাধিক প্রতিনিধি হলেও ক্ষতি নেই। দলীয় না হলে স্বতন্ত্রভাবে হলেও ভোটের মাঠ চষে বেড়াক। জনগণের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করুন। চ্যালেঞ্জ জানাক অন্য প্রার্থীদের। নির্বাচনী বিতর্ক, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় পাল্লা দিয়ে, চোখে চোখ রেখে বলতে শিখুক, দেশের মালিক শুধু আপনারা নন, আমাদের হিস্যা রয়েছে, সেই অধিকার বুঝে নিতে এসেছি!

হতে পারে, নির্বাচনে আপনি বিজয়ী হবেন না। মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসবে, মশকরা করবে। সমস্যা নেই। মনে রাখবেন, ‘প্রথমবার নির্বাচনে হারবেন, দ্বিতীয়বার অন্যের পরাজয়ের কারণ হবেন এবং তৃতীয়বার বিজয়ী হিসেবে জায়গা করে নেবেন।’ প্রথমবার নির্বাচনে হারার অর্থ এই নয় যে, আপনার ভবিষ্যৎ শেষ। আপনি মুখ থুবড়ে পড়েছেন। নির্বাচনে হার কোনো রাজনীতিবিদের জন্য প্রথম ব্যর্থতা নয়। এমন হারের নজির বহু রয়েছে।

রাজনীতিতে বিশেষ করে ভোটের লড়াইয়ে উক্তিটি বেশ কার্যকর, লড়াইয়ের টনিক। আপনার ইচ্ছা হয়েছে, আপনি লড়বেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন- এক দিন না একদিন মানুষের মনে আপনার দলের কাজ কিংবা আপনার প্রচেষ্টা ছাপ ফেলবে। প্রথমবারের নির্বাচনকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নিতে হবে, তাহলে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ভবিষ্যতে তা ছাপ ফেলবে না।

প্রশ্ন হতে পারে আপনি কেন নির্বাচন করবেন?

এক. দেশ ও দেশবাসীর জন্য সুখ-শান্তি-স্বস্তি ও প্রতিশ্রুতিময় নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আপনি নির্বাচন করবেন।

দু্ই. সারাদেশের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে নির্বাচন করবেন।

তিন. ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষা, নীতি চর্চা ও অপরাজনীতি বন্ধে আপনি নির্বাচন করবেন।

চার. সমাজ ও রাষ্ট্রে আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের রাজনৈতিক উত্থান জরুরি, এটা নিশ্চিত করতে নির্বাচন করবেন।

পাঁচ. চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে, যেভাবে ইসলামি শক্তিগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধে আপনি নির্বাচন করবেন।

ছয়. সাধারণ মানুষ, দিনমুজুর, খুচরা ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক, শ্রমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পেশার মানুষকে একতাবদ্ধ করতে নির্বাচন করবেন।

সাত. চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। গণ-অভ্যুত্থানের ১৫ মাসের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে যে, এবারের বিজয়ও হাতছাড়া হতে চলেছে। সেটা বন্ধে আপনি নির্বাচন করবেন।

আট. দেশ এখনও গভীর ও ক্রমবর্ধমান সংকটে, নৈরাজ্য, দুর্নীতি, লুণ্ঠন, অবক্ষয়ের মধ্যে রয়েছে। অধিকারহীনতা ও অংশীদারিত্বহীনতার যে শাসন ব্যবস্থা দেশে চলছে- তার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে আপনি নির্বাচন করবেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

এলএইস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ