||বিশেষ প্রতিনিধি||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যেই ঘোষণার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটের সম্ভাব্য তারিখও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগবিহীন রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই মেরুতে অবস্থান করছে। বর্তমান রাজনীতি এই দুটি দলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে তাদের মিত্র কিছু দল যেমন আছে তেমনি জামায়াতও ইসলামি ও সমমনা আটটি দল নিয়ে একটি মোর্চা করেছে, যাদের মধ্যে নির্বাচনে আসনভিত্তিক সমঝোতার আলোচনা চলছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি আসনগুলোর বেশির ভাগ দলটি তাদের মিত্রদের জন্য ছাড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছে। মিত্রদের অনেককে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী কয়েক মাস আগেই দেশের তিনশ আসনেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এবার দলটি আটটি দলের সমন্বয়ে মোর্চা করায় অন্তত এক তৃতীয়াংশ আসনে ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীসহ যে আটটি দল পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে তাদের কয়েকটি দাবি আংশিক পূরণ হয়েছে। তারপরও রাজনীতির মাঠে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। তবে যেহেতু নির্বাচনের তফসিলের সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত, এজন্য দলগুলো আসন সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। তবে কে কতটি আসনে ছাড় পাবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কিছু আদর্শগত কারণে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য কয়েকটি দলের জোট করার ব্যাপারে আপত্তি আছে। এজন্য তারা এটাকে কোনো জোট বলতে নারাজ। তারা এটাকে রাজনৈতিক মোর্চা বা আসনভিত্তিক সমঝোতা বলে অভিহিত করতে চাচ্ছে। তবে যেহেতু এখানে সবচেয়ে বড় দল জামায়াতে ইসলামী এজন্য অনেকেই এটাকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বলে অভিহিত করছে। যদিও এ ব্যাপারে অনেকের আপত্তি রয়েছে।
আট দলের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, আসন সমঝোতার প্রশ্নে আলোচনা চলছে। ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিলের আগে আগে বিষয়টি সুরাহা হবে। প্রাথমিকভাবে দলগুলো নিজ নিজ চাহিদা পেশ করছে। এসব বিষয়ে সব দলের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এই রাজনৈতিক মোর্চার ভবিষ্যৎ এখনো নির্ধারণ হয়নি। এতে বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত আটটি দল শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না সেটা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। আবার নতুন কিছু দল যুক্ত হতে পারে বলেও আছে আলোচনা। এজন্য বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আসন ভাগাভাগির আলোচনা চূড়ান্ত হবে না।
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে ২০০ আসন চেয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই খবরের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলটি বলছে, এখানে আসন দেওয়ার কিছু নেই। ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের কাছে আসন চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। জামায়াতও এই খবরকে নাকচ করে দিয়েছে।
তবে সূত্র জানিয়েছে, কোন দল কতটি আসনে ছাড় পেতে পারে এর একটা সমীক্ষা করা হচ্ছে। প্রত্যেক দলের কাছে তারা বিজয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা আছে এমন আসনের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, তারা এবার বৃহৎ ইসলামি শক্তির ভোট একবাক্সে নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত অন্তত এক তৃতীয়াংশ আসনে অন্যদের ছাড় দিতে প্রস্তুত। অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে নিজেদের সঙ্গে রাখতে সর্বোচ্চ ছাড়ের মানসিকতা তারা পোষণ করেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
তবে দলগুলোর চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আসন সমঝোতা করতে গিয়ে আট দলের মধ্যে বিভেদ দেখা দিতে পারে। এতে কোনো কোনো দল মোর্চা থেকে ছিটকেও পড়তে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বোঝাপড়া হয়ে গেলে এই মোর্চা শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠে গড়াবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এনএইচ/