শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১১ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঈদে ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের মিলনমেলা আজ জামায়াতের ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওমরাহ পালন আরও সহজ করতে সৌদি আরবের নতুন উদ্যোগ মসজিদুল আকসায় এক লাখ ফিলিস্তিনির রমজানের দ্বিতীয় জুমা আদায় ’ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রপিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে’  ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার স্বচ্ছতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়’ পাক-আফগান যুদ্ধ: কোনো পক্ষে অবস্থান নেবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানে হামলায় পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প যুব মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

এমপি হওয়ার দৌড়ে কতটা সুবিধাজনক অবস্থানে জমিয়ত মহাসচিব?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবারের নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে যে চারটি আসনে ছাড় পেয়েছে এর একটি নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)। এই আসনে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি, জাতীয় পার্টির কোণঠাসা অবস্থায় থাকা এবং বিএনপির কাছ থেকে ছাড় পাওয়ায় এমপি হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে মাওলানা আফেন্দী। তবে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

নীলফামারী-১ আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। দাখিলকৃত কাগজপত্রে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। তিনি খালেদা জিয়ার ভাগনে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই। তবে জোটের স্বার্থে বিএনপি আসনটি ছাড় দিয়েছে। যদিও স্থানীয় বিএনপির মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তারা তুহিনকে প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনও করেছেন টানা কয়েক দিন। শেষ পর্যন্ত তুহিন বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও ভোটের মাঠে তাঁর নিষ্ক্রিয়তা কিংবা বিপক্ষে সক্রিয়তা মাওলানা আফেন্দীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানা গেছে এলাকাবাসী সূত্রে। 

উত্তর জনপদের এই আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগ কিংবা জাতীয় পার্টির দখলে থেকেছে। ১৯৯৬ সালের ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনে স্বল্পকালের জন্য বিএনপি থেকে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এছাড়া আর কখনোই বিএনপি আসনটিতে ভালো করতে পারেনি। এজন্য আসনটিতে বিএনপির সমর্থন পুরোপুরি পেলেও জমিয়ত মহাসচিবের জন্য ভোটের বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে না। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব থাকলেও সংগঠন হিসেবে জমিয়ত এখানে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনি। 

এবারের নির্বাচনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর বিপরীতে শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এছাড়াও রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন। এর বাইরে এই আসনে সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি) ও জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও ১১ দলীয় জোটের মধ্যে সমঝোতা হলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

দলীয় সমীকরণে যাই হোক মাওলানা আফেন্দীর ব্যক্তিগত ইমেজ বেশ ভালো। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। ডোমার উপজেলার সোনারায়ের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে তাঁর জন্ম। তার পিতা প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আজহার আলী ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। পারিবারিক ঐতিহ্য ও আদর্শের পথ ধরেই তিনি শৈশব থেকে ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি অনেক বছর ধরে এলাকায় জনসেবামূলক কাজও করে আসছেন। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠে মাওলানা আফেন্দী চমক দেখাতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

এনএইচ /


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ