নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাব না কষে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বরেণ্য আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক ভিডিওতে তিনি বলেন, প্রার্থী জিতবেন কি না- সেটা ভোটারের দেখার বিষয় নয়; বরং আমানত হিসেবে নিজের ভোটটি সঠিক মানুষের পক্ষে দেওয়াই মুমিনের দায়িত্ব। সম্প্রতি এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘ভোট একটি আমানত। তাই সামান্য স্বার্থ বা টাকার লোভে পড়ে ভোট দেওয়া যাবে না। এটি আল্লাহর কাছে বড় জবাবদিহিতার জায়গা। যাকে ভোট দিলে দেশের সার্বিক উন্নতি হবে, চুরি-ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং ঈমান-আমল ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ সংরক্ষিত হবে, তাকেই ভোট দিতে হবে।’
অনেক ভোটার মনে করেন, ভালো মানুষের জেতার সম্ভাবনা কম, তাই তাকে ভোট দিলে ভোটটি নষ্ট হবে। এই ধারণাকে ভুল উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘ভোট আসলে নষ্ট হয় না। একজন ভালো মানুষ আজ অল্প ভোট পেলেও এর ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে তার সমর্থন বাড়বে। কিন্তু ভোট নষ্ট হওয়ার ভয়ে যদি তাকে ভোট না দিয়ে অন্য কাউকে দেন, তবে খারাপ মানুষগুলো তাদের রাজত্ব কায়েম রাখার সুযোগ পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে জেতানো আপনার দায়িত্ব নয়। আল্লাহর কাছে আপনার দায়িত্ব হলো মতামত চাওয়া হলে সঠিক ও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মত (ভোট) দেওয়া। আপনি যদি সততার সঙ্গে যোগ্য ব্যক্তি খুঁজতে চেষ্টা করেন, এরপরও যদি ভুল হয়, তবে আল্লাহর কাছে দায় থাকবে না। কিন্তু জেনে-শুনে অযোগ্য কাউকে ভোট দেওয়া যাবে না।’
হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এই ইসলামিক স্কলার সতর্ক করে বলেন, অযোগ্য মানুষকে যোগ্য ব্যক্তির চেয়ারে বসানো কেয়ামতের আলামত। আল্লাহ তাআলা আমানত যথাস্থানে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই গোষ্ঠীপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে সৎ মানুষকে ভোট দিতে হবে। প্রার্থী জিতুক বা হারুক, আমানতের খেয়ানত যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাই মুমিনের কর্তব্য।
আরএইচ/