বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

ইসলামে যাকাতের বিধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল কাইয়ুম শেখ।।।

যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ইসলামের সুরম্য প্রাসাদ নির্মিত তার অন্যতম হলো যাকাত। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভসমূহের সমান্তরালে এর অবস্থান। মহাগ্রন্থ আলকুরআনের ৩২ জায়গায় যাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন শরিফের বহু আয়াতে নামাযের সঙ্গে সঙ্গে যাকাতের আলোচনা করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মুসলিমকে যাকাত ফরয হবার বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করতে হবে; সঙ্গে সঙ্গে সামর্থ্যবান প্রতিটি ব্যক্তির যাকাত আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে।

যাকাতের পরিচয়

যাকাত একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, শুদ্ধতা, বর্ধনশীলতা ও প্রাচুর্যময়তা। আর ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর সঞ্চিত সম্পদের মোট মূল্যের আড়াই শতাংশ হারে নির্ধারিত দরিদ্র ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক আরোপিত অবশ্য প্রদেয় অর্থকে শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত বলা হয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে ‘প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক, মুসলমান নরনারীকে প্রতিবছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্ধারিত অংশ, যদি তা ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে তবে গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।’ যাকাত দানের মাধ্যমে যেহেতু চারিত্রিক শুদ্ধতা ও নিষ্কলুষতা অর্জিত হয় এবং সম্পদের সুষম বণ্টন ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায় তাই একে যাকাত বলে অভিহিত করা হয়।

যাকাত আবশ্যক হবার প্রমাণ

মহাগ্রন্থ আলকুরআনের বহু ভাষ্যের আলোকে নেসাবধারী প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির ওপর যাকাত প্রদান করা ফরয হবার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যাকাত প্রদান করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা নামায আদায় কর ও যাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৩) অন্য এক আয়াতে যাকাত প্রদানকে সঠিক ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘তাদেরকে এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ প্রদান করা হয় নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে। এটাই সঠিক ধর্ম। (সুরা বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫)

অনুরূপভাবে বহু হাদিসের আলোকেও সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির ওপর যাকাত প্রদান করা ফরয হবার বিষয়টি প্রমাণিত। সহিহ বুখারি শরিফে এসেছে : হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মহানবি সা. হযরত মুআয রা. কে ইয়ামান দেশে শাসক হিসাবে প্রেরণ করেন। প্রেরণকালে তিনি বলেন, সেখানকার অধিবাসীদের (প্রথমে) এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহ্বান করবে যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। যদি তারা তা মেনে নেয়, তা হলে তাদেরকে অবহিত করবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন।

যদি সেটাও তারা মেনে নেয়, তা হলে তাদেরকে জানাবে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে যাকাত ফর