মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম যিনি সালাম দিয়েছেন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ইসলামে সালাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সালাম মুসলমানের অভ্যর্থনা। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। দুনিয়ায় প্রশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামের আগমন। ‘ইসলাম’ আরবি শব্দ সালাম থেকে উদগত।

যার আক্ষরিক অর্থ শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সালাম মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম সমূহেরও একটি। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল সা: ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা ঘোষণা করেন।

পবিত্র কুরআনের ভাষায়, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।’ (সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৩) এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই দ্বীন ইসলাম তথা ইসলাম ধর্ম এবং এর সমস্ত বিধি-বিধানও পূর্ণতা লাভ করে।

সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষত্মতর সব বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। অন্যকে সম্ভাষণ ও অভ্যর্থনার জন্য শ্বাশত এ ধর্মের রীতি হচ্ছে সালামের আদান-প্রদান। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা: বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সা:-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? রাসূল সা: ইরশাদ করলেন, খানা খাওয়াও এবং সালাম দাও। যাকে চেনো তাকেও, যাকে চেন না তাকেও। (সহিহ বোখারি: ১১)। কিন্তু সালামের প্রচলন শুরু হয়েছিলো আরো বহু আগে।

সর্বপ্রথম সালাম দেন আদম আ:
‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থাৎ আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক-পরিভাষায় সম্পূর্ণ এ বাক্যটিকে সালাম বলা হয়। এর সাথে ওরাহমাতুল্লাহ এবং ওয়াবারাকাতুহ-এই যৌগিক শব্দ দুটি বলাও হাদিস দ্বারা প্রামাণিত। সর্বপ্রথম সালাম দেন প্রথম মানব ও নবী হজরত আদম আ:।

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদের সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের কী উত্তর দেয়, মন দিয়ে শোনো। এটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালাম। সে অনুযায়ী হজরত আদম আ: গিয়ে ফেরেশতাদের বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’, অর্থ ‘আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ ফেরেশতারা উত্তরে বলেন, ‘আসলামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ’, অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।’ (মিশকাত: ৪৬২৮)।

সালাম জান্নাতীদেরও অভ্যর্থনা
মহানবী সা: আমাদের উত্তম পদ্ধতিতে সম্ভাষণ ও অভ্যর্থণার রীতি শিক্ষা দিয়েছেন তা হলো সালাম। জান্নাতীদের অভ্যর্থণাও হবে সালাম। পব্ত্রি কুরআনের একাধিক আয়াতে একথা স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যার নিচে নির্ঝরিণী প্রবাহিত হবে।

তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে। সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম। (সূরা : ইবরাহিম, আয়াত : ২৩) সুরা ইয়াসিনের ৫৮ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘সালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সম্ভাষণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘জান্নাতের রক্ষীরা (ফেরেশতারা) তাদের (জান্নাতীদের) বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ করো স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য।’ (সূরা : ঝুমার, আয়াত : ৭৩)

সালামের শিক্ষা
সালাম আমাদের উত্তম চরিত্র ও ভাল আচরণ শিক্ষা দেয়। কেননা, রাসুল সা:-কে কেউ সালামের পরিবর্তে গালিগালাজ করলেও তিনি এর কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি। একবার এক ইহুদি এসে রাসূল সা:-কে বলল, ‘আস-সামু আলাইকুম’ অর্থাৎ আপনার মৃত্যু হোক। আল্লাহর রাসূল সা: জবাবে কিছুই বললেন না।

কাছেই ছিলেন হজরত আয়েশা রা:, তিনি ইহুদির এই মৃত্যু কামনার কথা শুনে ফেলেন। মনের কষ্টে রাসূল সা:-কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ!

আপনি এই ইহুদিকে কিছুই বললেন না যে; সে তো আপনাকে মৃত্যুর গালি দিলো? হজরত রাসূল সা: হজরত আয়েশা রা:-কে বললেন, তাকে আমি কি বলবো? সে আমাকে মৃত্যুর গালি দিয়েছে। তার কথায় কি আমার মৃত্যু হয়েছে বা হবে? আমি যদি তাকে অনুরূপ জবাব দিতাম তাহলে হয়তোবা সে এখানে মরে যেতো। তাই আমি চুপ থাকলাম।

চুপ থাকাতে ঝগড়াও হয়নি। আমারো কোনো ঝামেলা হয়নি। ইহুদির সাথে তর্কে জড়িয়ে গেলে আমি বিতর্কিত হতাম। চুপ থাকাতে ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে নিরাপদ রয়েছি। কল্যাণ এখানেই, মানুষের কল্যাণ হয় ভালো ব্যবহার আর ভালো আচরণে। অকল্যাণ আসে খারাপ আচরণে। আচরণ হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ