শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইফার নামে ভুয়া নিয়োগ ও অর্থ সহায়তার বিজ্ঞপ্তি, সতর্ক থাকার আহ্বান খেলাফত মজলিস কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার দায়িত্বশীল সভা অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী মালিবাগ ট্রাজেডির ২৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ বালাগঞ্জে বিকেএমের ওয়ার্ড প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত দেশ গড়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল মহিলা মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণ, ৫ শিক্ষার্থী আহত নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২ রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, নেতাকর্মীদের সতর্ক করল বিএনপি

ইসলামে হিজাব তথা পর্দার বিধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি উবায়দুল্লাহ জুনাইদ: যৌনাঙ্গকে হিফাজত করা ও সংযত রাখা পর্দার বড় বিধান। শরীয়তে নারীর জন্য পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে। নারীকে হাদীস শরীফে ‘আওরত’ বলা হয়। আওরত শব্দের অর্থ গুপ্ত বা আবৃত। নারীর নামেই বুঝা যায় নারীর জন্য পর্দা আবশ্যকীয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিস সেলফে বা সিন্দুকে রাখা হয়; জনসম্মুখে নয়। যদি টাকা পয়সা সযত্নে রাখেন, আর মা বোনদেরকে বাহিরে ছেড়ে দেন, তাহলে মনে হয় আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত টাকা পয়সার চেয়েও অনেক কম। কিন্তু এই সাধারণ বিষয়টি মানুষ বুঝতে চায় না।

পৃথিবীর সকল জিনিস আল্লাহ্ তাআলা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আর সেখানে কিছু নেগেটিভ ও পজিটিভ দিকও আছে। পুরুষ-মহিল পরস্পর পজিটিভ ও নেগেটিভ। তাদের একে অপরের প্রতি অনুভূতি ও উপলব্ধি আছে, আকর্ষণ- বিকর্ষণ আছে, এই জন্য সেখানে পর্দা দিতে হয়। বিদ্যুতের তারের উপর যদি আবরণ না থাকে ,সেখানে যেমন শর্ট- সার্কিট হয়, অনুরূপ নারী-পুরুষের মধ্যে যদি পর্দা না থাকে শর্ট সার্কিট হবে।

আর সেই আগুনে শুধু সংসার নয় বরং গোটা সমাজ ভস্মীভূত হয়ে যাবে। আমরা দেখি ,আমাদের শরীরের ভিতরের রক্ত- মাংস রক্ষা করার জন্য আল্লাহ্ তাআলা ত্বক দিয়েছেন ,ত্বকে যদি পচন ধরে ভিতরেও পচন সৃষ্টি হয়। আমাদের নারী-পুরুষের ইজ্জত-সম্মান ও আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য হিজাবের আবরণ বা ত্বক দিয়েছেন, যদি তা নষ্ট হয়ে যায়, গোটা সমাজে পচন ধরে যাবে। আল্লাহ্ তাআলা সকলকেই পর্দার বিধান মত আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হিজাব এটা নতুন কিছু নয়। যুগে-যুগে মহিলারা তা ধারণ করে আসছে। তবে বিগত দেড়শ-দু'শ বছর থেকে আমরা পর্দাহীনতার সমস্যা দেখতে পাচ্ছি। এমনকি একসময় ইহুদি-খ্রিস্টানরাও এটা ব্যবহার করছে এবং তাদের ধর্মীয় বইপুস্তকে হিজাব বা পর্দা সংক্রান্ত আলোচনা করেছে। যদিও তারা কমই পালন করে থাকে। একসময় যে ধর্মেরই হোক মহিলাদের একটা শালীন পোশাক ছিল, কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যুগের আধুনিকতার হাওয়ায়, বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তির স্রোতে

আমাদের অনেক কিছুই ভেসে গেছে। তন্মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধও ভেসে যাচ্ছে। এ কারণেই মূলত পোশাকের এ অবস্থা।

আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘(হে নবী!) আপনি আপনার পত্মীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, যখন কোনো প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়, তখন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এমনকি চেহারাও যেন খোলা না রাখে। তারা যেন বড় চাদরের ঘোমটা দ্বারা নিজেদের চেহারাকে আবৃত করে রাখে।) ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সূরা আহযাব, আয়াত : ৬০)

লেখক: তরুণ আলেম, প্রাবন্ধিক।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ