ইবনে নাজ্জার।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবর্ষ শাওয়াল মাসে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়ে শাবান মাসে বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। ফলে রজব মাসে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভিন্ন কিতাবের শেষ সবক পড়ানো হয়।
বেশিরভাগ মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শ্রেণীর বিশেষ কিতাবের শেষ সবক নিয়ে থাকে অন্য রকম আয়োজন। বিশেষ করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলো বুখারি শরিফের শেষ হাদিস পড়ানো নিয়ে করে এক মহাআয়োজন।
সারা বছর জুড়ে যে সকল শিক্ষকগণ একা অথবা দুজনে মিলে বুখারি শরিফ পড়ান, শেষ হাদিস পড়ানোর জন্য তাদের বাদ দিয়ে অন্য জায়গা থেকে শাইখুল হাদিস দাওয়াত দিয়ে আনা হয়।
প্রতিদিন খালি গলায় বা সাউন্ডবক্সে পড়ানো গেলেও মাইক ছাড়া শেষ হাদিস পড়ানো যায় না। নির্ধারিত শ্রেণীকক্ষে পুরো বুখারি পড়তে পারলেও শেষ হাদিস পড়তে জায়গা পরিবর্তন করতে হয়। সারা বছর জুড়ে সাধারণ বিছানা বা কার্পেটে বসে বুখারি পড়লেও শেষ হাদিস পড়তে ভাড়া করে আনতে হয় বিশেষ উন্নতমানের বিছানা।
বছর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ কাপড় পরে বুখারির হাদিস শুনলেও শেষ হাদিস শুনতে পরতে হয় নতুন অথবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর কাপড়।
অন্যদিন সাধারণ খাবার খেলেও শেষ হাদিস পড়ানোর দিন উন্নতমানের খাবার খেতে হয়। এছাড়াও অনেক বাড়াবাড়ি করা হয় এই দিনকে কেন্দ্র করে। সবচেয়ে আফসোসের বিষয় হলো, শেষ হাদিস পড়ে সনদ দেওয়া হয় আকাবিরে দেওবন্দের। অথচ এই শেষ হাদিস পড়া নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দে নেই কোনো আয়োজন।
আজ রোজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টার দিকে দারুল উলুম দেওবন্দের নতুন লাইব্রেরিতে অবস্থিত দারুল হাদিসে পড়ানো হয়েছে বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ 'বুখারি শরিফে'র শেষ হাদিস।
প্রতিদিনের মতো আজও দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখে ছানি আল্লামা কমরুদ্দিন গৌরখপুরি বেলা প্রায় ১১ টার দিকে আসেন দারুল হাদিসে। লাঠি ভর দিয়ে আস্তে আস্তে প্রবেশ করেন ভিতরে। প্রতিদিনের মতো বসে পড়েন পুরোনো সেই চৌকিতে। কোনো রকম কোনো হৈ হুল্লোড় নেই।
দারুল উলুম দেওবন্দের পক্ষ থেকেও নেই কোনো বিশেষ আয়োজন। ছাত্ররা প্রতিদিনের মতো সাধারণ পোশাকে এসেছে দারুল হাদিসে। পুরনো জায়গায়, পুরোনো ধাঁচে প্রতিদিনের সেই চেনা মুখ আজও সবক পড়ানো শুরু করলেন। দাওরায়ে হাদিসের দায়িত্বশীল ছাত্র বুখারি শরিফের শেষ হাদিস পড়ানোর বিষয়টি গতকালই ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ফলে দুআয় অংশগ্রহণ করতে শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন শ্রেণীর কিছু ছাত্র এলেও আসেনি কোনো শিক্ষক। পড়াতে পড়াতে দুপুর প্রায় ১টার দিকে পড়ালেন বুখারি শরিফের শেষ হাদিস। তারপর সংক্ষিপ্ত দুআ করে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
রওয়ানা হলেন দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষকদের অস্থায়ী বাসভবনের দিকে। এভাবেই দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ানো হলো বুখারি শরিফের শেষ হাদিস।
-এটি