কাওসার আইয়ুব ৩৮ সাল। আমরা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। মাসলামা বিন আব্দুল মালিক সেনা প্রধান। আমরা অনেক যুদ্ধ মাসলামার নেতৃত্বে করেছি। বিজয়ও হয়েছি। এ যুদ্ধে আমরা বসরা এবং জাজিরাতুল আরব এর মুজাহিদরা একসাথে লড়ব।
নিজেদের ঘরওয়া কাজ রান্নাবান্না এবং পাহারাদারি নিজেরাই করতাম। সাঈদ ইবনুল হারিস নামে এক যুবক ছিল। মধ্যমা গরনের আকৃতি। শান্ত মেজাজের। বেশ নেক আমল প্রিয়ো। দিনে রোজা রাখে রাতে যুদ্ধ করে।
এক সিজদায় রাত পার করে দেয়। শেষরাতে তাহাজ্জুদের জায়নামাযে বসে মন ভরে কান্না-কাটি ছিলো তার রীতিমতো অভ্যাস। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, এসব তার চব্বিশ ঘন্টাই আমল।
যেদিন সাথিদের রান্নাবান্না এবং পাহারাদারির দায়িত্ব তার একসাথে আসতো আমরা তাকে কাজ থেকে মুক্তি দিতাম। কিন্তু সে জোর করে নিজের দায়িত্ব সাচ্ছন্দে পালন করে। সে রিতিমত সকল কাজ পালন করে ইবাদাতও চালিয়ে যায়। কোন অজুহাতে তার ইবাদতে ঘাটতি হয় না।
যুদ্ধরত দিন রাত তার এমনই কাটছিলো। যুদ্ধের এক পরযায়ে আমরা রোমানদের দুর্গ অবরোধ করি। সে দিন সাঈদের সাথে আমিও একজন পাহারাদার। দুর্গ অবরোধ করে রাখতে বেশ ব্যগপুহাতে হচ্ছে আমাদের।
সারারাত সজাগ থেকে পাহারাদারি, দিনে যুদ্ধের সরান্জাম প্রস্তুত আবার সেনাদের সব বিষয় লক্ষ রাখা, বেশ পরিশ্রম ও ক্লান্ত সময় কাটছে আমার। কিন্তু পরিশ্রমী সাঈদ দিব্বি সব কিছু নিজ গতিতে করে যাচ্ছে। জেগে থেকে পাহারাদারি, তেলাওয়াত, জিকির, নামাজ, কান্নআকাটি সবকিছুই ঠিক ছিলো ওর।
সকাল হয়েছে। আমি সাঈদকে ডেকে বললাম, সাঈদ! তুমি নিজের শরিরের দিকে একটু তাকাও। এমনিতেই ঝির্ণশির্ণ হয়ে পরছো। এতো পরিশ্রম তোমার জন্য উচিত না। নিজের উপর একটু রহম করো। নিজেকে এত বেশি কষ্ট দিও না।
আমি তাকে রাসূলের একটি হাদিসও শুনালাম। বললাম, নবিজীতো বলেছেন প্রত্যেকে নিজ সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করো। উত্তরে সাঈদ বললো, হে আমার সংরামি ভাই! এ হাদিস তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। যাদের জীবনে দীর্ঘ সময় এখনো বাকি আছে। আমিতো মৃত্যুর কাছাকাছি চলে এসেছি, মৃত্যু আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমি কি আমার রবের সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য সব চেষ্টা চালিয়ে যাবো না!
সাঈদের কথা শুনে আমার চোখের কোনায় বিন্দু বিন্দু অশ্রু জমেছে। আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আল্লাহ যেন তাকে সাহায্য করেন এবং দ্বীনের উপর টিকিয়ে রাখেন।
তাকে বললাম তুমি তো সারারাত জেগে ছিলে এখন সকাল সকাল কিছুটা ঘুমিয়ে নাও। সামান্য বিশ্রাম করো। খানিক পরে যুদ্ধ শুরু হবে তখন বিশ্রামের সুযোগ পাবেন না। আজকের যুদ্ধ অনেকটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।
কথা শুনে সাঈদ তাবুর এক পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
শান্ত প্