fbpx
           
       
           
       
‘আব্বাজানের জীবনের অন্যতম আশ্চর্যান্বিত একটি ঘটনা’
জানুয়ারি ১৩, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী یادیں ইয়াদেঁ  মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি রোববার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো ৫৫ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ উমর ফারুক ইবরাহীমী।]


পূর্ব প্রকাশের পর: আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. এর মাকবারা সংলগ্ন জায়গায় দারুলউলুম স্থানান্তরিতকরণ।

সে বছর (১৩৭৪ হিজরি মোতাবেক ১৯৫৫ ইংরেজি সন) দারুলউলুম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার অবতারণা হয়েছিল। এখানে তার ঈষৎ বিবরণ দেয়া জরুরি মনে করছি।

সেসময় পর্যন্ত করাচিতে দারুল উলুম ভিন্ন আর কোন দ্বীনি মাদরাসা ছিলনা। স্বভাবতই দারুল উলুমের ছাত্রসংখ্যা খুব দ্রুতই বেড়ে চলছিল। এক পর্যায়ে দেখা গেলো দারুল উলুম নানোকওয়াড়া শাখায় ছাত্র সংকুলান হচ্ছেনা। তাই সবাই কোন প্রশস্ত জায়গায় দারুল উলুম স্থানান্তরিত করার তীব্র প্রয়োজনবোধ করছিলেন।

এই প্রয়োজনীয়তা আব্বাজানের চেয়ে বেশি আর কে অনুভব করবেন!? সুতরাং তিনি সবসময় একটি প্রশস্ত জায়গার অনুসন্ধান ও ফিকিরে থাকতেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও মেহনতের পর হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. মাকবারা সংলগ্ন একটি সুবিশাল পরিত্যক্ত ময়দানের সন্ধান পাওয়া গেল।

পরিত্যক্ত সেই জমিটির মালিকানা লাভ এবং পরবর্তীতে মালিকানা ছেড়ে দেয়ার ঘটনাটি আব্বাজানের জীবনের একটি অন্যতম আশ্চর্যান্বিত ঘটনা।

যার ব্যাপারে আমি আমার শায়েখ হযরত ডক্টর আব্দুল হাই আরেফি রহ., হযরত মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরি রহ. এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরামকে বলতে শুনেছি যে, হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ. এর আযমত, মহত্ব, সত্যবাদিতা, সরলতা এবং ইখলাসের উৎকৃষ্ট উদাহরণের জন্য এই একটি কাজই যথেষ্ট।

এখনো পর্যন্ত এ ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা লিখিতভাবে কোথাও ছেপে আসেনি। অথচ এটি অত্যন্ত শিক্ষনীয় একটি ঘটনা। সে কারণে আমি এখানে সবিস্তার আলোচনার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

হযরত আব্বাজান রহ. তিনি হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানির রহ. শিষ্য এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার সহযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়া তাদের মাঝে পূর্ব আত্মীয়তার বন্ধনও ছিল। হযরত আমার দাদিকে মামানি বলতেন। কেমন যেন আব্বাজান কোন দিক থেকে হযরতের মামাতো ভাই ছিলেন।

হযরত আল্লামাকে খান্দানের সবাই ভালোবাসার আতিশয্যে ‘ফুল আব্বা’ বলতেন। আর হযরতের আহলিয়াকে “ফুল আম্মা” বলতেন। তাদের কোন সন্তানাদি ছিলনা। তার ভাই জনাব মরহুম ফজলে হক ফজলি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। জাগতিক শিক্ষাও যৎসামান্য লাভ করেছিলেন।

তিনি দেওবন্দের ডাক খানার অফিসার পদে চাকুরী করতেন। তারই এক কন্যাকে আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. দত্তক এনেছিলেন। পরবর্তীতে হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেবের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেব অত্যন্ত যোগ্য আলেমেদ্বীন ছিলেন।

হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানির মৃত্যুর সময় সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান সাহেব তার দাফনের জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

হযরতের কবরের পাশে বিশাল আয়তনের একটি জায়গা খালি ছিল। আব্বাজানের লক্ষ্য ছিল, হযরতের মাকবারার পাশে তার শান অনুযায়ী একটি দারুল উলুম গড়ে উঠুক। অপরদিকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হযরতের ত্যাগ ও সংগ্রাম এবং হিন্দুস্তানে ছেড়ে আসা তার যাবতীয় সহায়-সম্পত্তি ও অন্যান্য কোরবানির দিকে তাকালে মনে হয়, হযরতের স্ত্রী ও দত্তক নেয়া সন্তানের স্থায়ী বসবাসের জন্য কোন উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থাও করা দরকার।

সুতরাং আব্বাজান রহ. হযরতের স্ত্রী, পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকে একটি আবেদন লিখে রাষ্ট্র বরাবর পেশ করলেন যে, সে স্থানে হযরতের স্মরণে একটি দারুলউলুম প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং হযরতের পরিবার-পরিজনের জন্য স্থায়ী প্লট বরাদ্দ দেয়া হোক। এই আবেদনটি পরিবারের কয়েকজনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু এটি কয়েক বছর হিমাগারে পড়েছিল। রাষ্ট্রীয় মন্ত্রণালয়ে যা হয় আর কি! ইতিমধ্যে নানোকওয়াড়ায় দারুল উলুমের স্থায়ী জায়গার বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। আরও বড় জায়গার প্রয়োজন দেখা দিল।

আব্বাজানকে পরামর্শ দেয়া হলো, এখনো পর্যন্ত হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. এর মাকবারা সংলগ্ন জায়গার কোন সুরাহা হয়নি।

যেহেতু সেটি কেবলই কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের কাছে একটি নিবেদন ছিল, সুতরাং এখন ফের আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি রেজিস্টারভূক্ত দারুলউলুমের পক্ষ থেকে একটি দরখাস্ত রাষ্ট্র বরাবর পেশ করা হোক। এতে হয়ত বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হবে।

সুতরাং আব্বাজান রহ. হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানির পরিবার-পরিজনকে জানিয়ে দারুলউলুম নানকওয়াড়া’য় করাচির চীফ কমিশনারকে আমন্ত্রণ জানালেন যেন তিনি নিজেই দারুলউলুমের জায়গার সংকীর্ণতা এবং প্রশস্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

সেখানে হযরত আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানির পরিবার-পরিজনও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে সে বৈঠকে মৌখিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, হযরত আল্লামা’র স্মরণে সেখানে দারুলউলুমের নামে একটি জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে এবং হযরতের পরিবার-পরিজনের জন্যেও আলাদাভাবে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে।

১৯৫৩ সনের ৩ জুলাই ফের করাচির চীফ কমিশনার বরাবর আরেকটি দরখাস্ত দেয়া হয়। সেটাও হযরতের পরিবারের সদস্যরা জানতেন। অপরদিকে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

পরবর্তীতে যখন জানা গেল, এই জায়গাটি কর্পোরেশন এর সিদ্ধান্ত ছাড়া নেয়া সম্ভব নয়। ১৯৫৪ সনের ৫ জানুয়ারি করপোরেশন বরাবর আরেকটি দরখাস্ত দেয়া হয়। সেখানে দারুলউলুমের জন্য জায়গা দেয়ার কথা ছাড়াও হযরতের স্ত্রী, দত্তক নেয়া কন্যার স্বামী এবং ভাই প্রত্যেককে আটশত গজ করে প্লট দেয়ার আবেদনও ছিলো। এছাড়াও হযরতের দূরসম্পর্কের আরো পাঁচজন আত্মীয়ের নামও এই তালিকাভুক্ত ছিল।

সুতরাং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৫৪ সনের ৩ মে কর্পোরেশনের স্ট্যান্ডিং কোম্পানি আবেদন মঞ্জুরির সুপারিশ দিয়েছে। এরপর ২৩ জুলাই, ১৯৫৪ সনে কর্পোরেশনের ল্যান্ড ম্যানেজার অফিস থেকে কিছু শর্তের ভিত্তিতে আবেদনটি গৃহীত হয়।

মুফতি তাকি উসমানির ধারাবাহিক আত্মজীবনী ইয়াদেঁ এর ৩৮ তম পর্ব

চলবে ইনশাআল্লাহ….

-এটি