শিরোনাম :
হজরত মানসূর বিন মু‘তামির রহ. এর পরকাল ভাবনা ও মুজাহাদার বেনজির উপমা
জানুয়ারি ১০, ২০২২ ৫:০০ অপরাহ্ণ

মুযযাম্মিল হক উমায়ের।। তিনি রাতে ছাদের উপর ওঠে নামায পড়তেন৷ যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন প্রতিবেশীর এক মেয়ে তার বাবাকে বললো, বাবা! ওই ছাদের উপর যে একটি খুঁটি ছিলো, সেটি তো এখন দেখি না৷ উত্তরে বাবা বললো, সেটি খুঁটি ছিলো না৷ তিনি বুজুর্গ মানসূর বিন মু‘তামির ছিলেন৷ তিনি ছাদে ওঠে সারা রাত নামায পড়তেন৷

ষাট বছর যাবত তিনি দিনে রোযা রাখতেন আর রাতে নামায পড়তেন৷

রাতের অধিকাংশ সময় তিনি রোনাজারি কান্নাকাটি করতেন৷ অধিক কান্নার কারণে তাঁর উপর ঘরবাসীর দয়া চলে আসতো৷ কিন্তু তিনি সকাল হলেই চোখে সুরমা দিয়ে, তেল ব্যবহার করে অত্যন্ত প্রফুল্ল-সতেজ দেহ ও মন লোকজনের সামনে বের হতেন৷ যেনো লোকেরা ভাবে তিনি সারা রাত অত্যন্ত আরামের সাথে ঘুমিয়েছেন৷ মূল উদ্দেশ্য ছিলো, তাঁর রাতের ইবাদত যেনো লোকজনের অজানা থাকে৷

তিনি বলতেন, যদি এই কথা মেনে নেওয়া হয় যে, দুনিয়ার ভালোবাসা ছাড়া আমাদের আর কোন গুনাহ নেই, তবুও এই গুনাহটিই আমাদেরকে জাহান্নামের উপযুক্ত করে দিতে পারে৷

তিনি আলেমদেরকে বলতেন, আপনারা তো ইলমের স্বাদ গ্রহণ করেন নিজেরা শুনে এবং অন্যদেরকে শুনিয়ে অথচ ইলম দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হলো, আমল৷ যদি আপনার ইলম অনুযায়ী আমল করতেন, তাহলে দুনিয়া হাসিল থেকে বিরত থাকতেন৷ কারণ, ইলমের মধ্যে এমন কোন অংশ নেই, যা দুনিয়াকে ভালোবাসার দিকে উৎসাহিত করতে পারে৷

তিনি বলতেন, সবচেয়ে দুনিয়া বিমূখতা হলো, মানুষের সাথে ওঠাবসা ও তাদের খাতির-তাওয়াজু থেকে নিজেকে বিমূখ করে রাখা৷

তিনি দুআয় বলতেন, আয় আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাকে সন্তান দিবেন না৷ সম্পদ দিবেন না৷ ঘরবাড়ি দিবেন না৷ কোন খাদেম দিবেন না৷ এমনকি যেসব জিনিস আপনি দিয়েছেন এবং সেগুলো থেকে যেগুলোকে অপছন্দ করেন, সেগুলোও আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেন৷

সূত্র: আকওয়ালে সালফ

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ