শিরোনাম :
বিবাহ: প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবন্ধকতা
ডিসেম্বর ০৬, ২০২১ ৭:০৯ অপরাহ্ণ

আল আমীন আজহার ।। প্রয়োজনীয়তা এবং আবশ্যকীয়তা: মানুষ সামাজিক জীব। প্রাকৃতিক প্রাণী। প্রাকৃতিক প্রয়োজন এবং সামাজিক মূল্যবোধের দায়িত্ব থেকেই নারীর প্রতি পুরুষের এবং পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ বয়সের সাথে সাথে আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকে।আল্লাহ বলেছেন- আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।( সূরা:নাবা: আয়াত নং ০৮)

একজন নারী কিংবা পুরুষের শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশের জন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তার আকর্ষণের আবেদন সভ্যতার পরিচ্ছদতুল্য। আল্লাহ বলেছেন- তারা নারীরা তোমাদের পুরুষদের জন্য পোশাক এবং তোমরা পুরুষরা নারীদের পরিচ্ছদ স্বরূপ। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ১৮৭)

সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং পুরুষ সমাজের চারিত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় একজন নারীর বিকল্প কেউ নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- দুনিয়ার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হলো একজন নেককার স্ত্রী। (মুসলিম শরীফ: হাদীস নং ১৪৬৭)

কুরআনে এরশাদ হয়েছে- ‘তিনি তোমাদের থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন মিল-মহব্বত-ভালোবাসা এবং সম্প্রীতি!'(সূরা: রুম: আয়াত নং ২১) সুতরাং একজন পুরুষের জীবনে নারী;স্ত্রীদের অবদান অনস্বীকার্য।

উপরন্তু- কোন নারী কিংবা পুরুষের যদি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের পরিবর্তে বিকর্ষণ তৈরি হয় তাহলে মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী তার আশু চিকিৎসা প্রয়োজন।

ইসলাম এটাকে ঘৃণিত কাজ হিসাবে দেখে। এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও এসেছে।হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘বিয়ে আমার সুন্নত। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নত ও নীতি অনুযায়ী কাজ করবে না সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস নং ১৮৫১)

পৃথিবীর ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার অন্যতম এক উপাদান বিয়ে। চারিত্রিক নিষ্কলুষতা টিকিয়ে রাখার উপায়ও এই বিয়ে। হাদিসের ভাষায়, বিয়েতে রয়েছে নানামুখী বরকত। এটি লজ্জাস্থান ও দৃষ্টি হেফাজতের সর্বোত্তম পন্থা।(সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৫০৬৬, সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ১৪০০)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি বিবাহ করলো সে তার অর্ধেক দীন পূর্ণ করলো আর বাকী অর্ধেক দীনের ক্ষেত্রে যেন আল্লাহকে ভয় করে।'(বায়হাকী এবং তাবরানী শরীফ)

মোটকথা- ধর্মীয় আদেশ পালন মানসিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক রাজনৈতিক সামাজিক ও দার্শনিক অপূর্ণতা পূরণের জন্যই বিবাহ জরুরী।

ইসলামী শরীয়াতে বিবাহের বিধান: হাদিসের পরিভাষায় বিবাহ একটি সুন্নত।আর ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ ফরয-ওয়াজিব-সুন্নত-মুস্তাহাব-মাকরূহ সবই হতে পারে পরিস্থিতিভেদে। সাদামাটাভাবে বললে (ফাতওয়ার ভাষায় নয়) এভাবে বলা যায় – ব্যক্তির বিবাহের চাহিদা তীব্রতর হলে এবং হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা হলে, সাথে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে সক্ষমতা থাকলে তা পরিস্থিতি ভেদে ফরয-ওয়াজিব হবে। ভরণপোষণ দেয়ার সক্ষমতা না থাকলে তা মাকরূহ হতে পারে। আর স্বাভাবিক অবস্থায়- চাহিদা তীব্রতর না হলে বা হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না হলে- তা সুন্নত-মুস্তাহাব হবে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘তোমাদের মধ্যে সাবলম্বী লোকেরা যেন বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলে!'(সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৫০৬৬)

বিবাহ একটি পুরুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে।প্রোডাক্টিভ করে এবং সমাজে ইকোনমিক ভ্যালু এ্যাড করে দেয়। বিবাহের মাধ্যমে তৈরি রেস্পন্সিবিলিটি পুরুষের সময়কে মূল্যবান করে তোলে। অর্থব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।একজন বিবাহিত পুরুষের প্রতি অর্থব্যবস্থার চাহিদা আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকে ফলে অর্থব্যবস্থায় তাকে আরো বেশি কাজ বা প্রোডাক্ট যোগান দিতে হয়।
আমাদের দেশের রাস্তায় রাস্তায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া সিগারেটে ফুঁক দেয়া এলাকায় মাস্তানি করা এবং মিছিলে যোগ দেয়া মানুষগুলোর একটি বড় অংশই অবিবাহিত বেকার। অর্থব্যবস্থা তাদের কাছ থেকে কোনো ইনপুট পায় না।

প্রতিবন্ধকতা
১. দারিদ্রের সঙ্কট: বর্তমানের পৃথিবীতে বিশেষত বাংলাদেশে অভাব ও দারিদ্র্যের ভয়ে বিয়ের প্রতি যুবকদের একটি নীরব অনীহা ও শংকা সৃষ্টি হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টির পেছনে আমাদের সমাজ এবং অভিভাবকমহল অনেকাংশে দায়ী। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি দারিদ্র্যের ভয়ে বিয়ে থেকে বিমুখ থাকলো সে যেন আল্লাহর ব্যাপারেই মন্দ ধারণা পোষণ করলো। –(সুনানে আবু দাউদ)

আমাদের সমাজের যুবক শ্রেণি- পড়াশুনা ক্যারিয়ার ও দারিদ্র্যের শঙ্কায় চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে বিয়ে থেকে বিমুখ থাকছে। ফলশ্রুতিতে সমাজে অবৈধ সম্পর্ক অনাচার এবং চরিত্র বিধ্বংসী নানা কার্যকলাপ বিকাশ লাভের সুযোগ অবারিত হচ্ছে। অথচ বিয়ের সহজীকরণের ব্যাপারে খোদ আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা- ‘যদি তারা দরিদ্র হয় তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের স্বাবলম্বী বানিয়ে দেবেন।(সূরা নূর: আয়াত নং ৩২)
এর চেয়ে খুশির খবর ও ভরসার কথা আর কী হতে পারে!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের দিকে তাকালে আমরা দেখি, সামান্য লোহার আংটি দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। হাদিসে স্পষ্ট এসেছে- ‘ওই বিয়েতে আল্লাহর বরকত রয়েছে যা সম্পন্নকরণে অতি সহজ।’

ইসলাম বিয়েকে সহজ করেছে। কিন্তু অধুনা সমাজব্যবস্থা যুবক যুবতী এবং অভিভাবকদের সামনে কঠিন করে উপস্থাপন করছে। ফলশ্রুতিতে যুবক যুবতী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে দারিদ্রের শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। এবং বিয়ে থেকে বৈরাগ্য-ভাবের অভিশাপে সমাজে অন্যান্য অবৈধ অনাচার এবং পাপকর্মের সয়লাব হচ্ছে।এ ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।

কোরআন-হাদিসে বিয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধন ও সামাজিক সুশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিয়ের প্রতি সার্বিকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আর তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের সৎ ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীদেরও। যদি তারা দরিদ্র হয় তবে আল্লাহ তার নিজ অনুগ্রহে ধনী বানিয়ে দেবেন।’ (সূরা নূর: আয়াত নং ৩২)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে বিয়ের প্রতি উৎসাহ ও তাকিদ দিয়েছেন।বলেছেন- ‘চারটি জিনিস নবীদের চিরাচরিত সুন্নত। ১. লজ্জা-শরম, ২. সুগন্ধি ব্যবহার করা, ৩. মেসওয়াক করা এবং ৪. বিয়ে করা।’ (সুনানে তিরমিজি: হাদীস নং ১০১৮)

২. পারিবারিক সঙ্কট: নয়া প্রজন্মের বিবাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বা প্রতিবন্ধকতা হলো- পারিবারিক সঙ্কট। উচ্চ শিক্ষিত পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামীণ সভ্যতার অধুনা পরিবার পর্যন্ত কেউ একথা মানতে বাধ্য নয়- ছেলে মেয়েরা বয়সের বিবাদ না রেখে ধর্মীয় আদেশ পালন মানসিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক রাজনৈতিক সামাজিক ও দার্শনিক অপূর্ণতা পূরণের জন্য বিবাহ করবে।ভাবটা যেন এরকম- নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ের কথা বলা মহাপাপ! এক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের অতিরঞ্জন এবং একঘেয়েমি খুবই দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক।
হয়তো সীরাত এবং ইতিহাসের এই দিকটা তাদের সামনে অনুপস্থিত- ‘যে আয়েশা সিদ্দিকা রাযিয়াল্লাহু আনহার বিবাহ হয়েছে মাত্র ছ’বছর বয়সে’- যদিও আজকের অভিভাবকমহল নিজেদেরকে একেকজন ইতিহাসবেত্তা ভেবে থাকেন!

পারিবারিক সঙ্কটের মুখে পড়ে হালের ছেলে মেয়েরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে অসভ্যতার নায়ে জীবনের পবিত্র যৌবনের ভেলা ভাসিয়ে দিচ্ছে। আর এতেই তারা সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছে।পরিণামের কোন ভয় তাদের নেই। অথচ আল্লাহর বাণী হলো- ‘যারা নিজ স্ত্রীদের ছাড়া বিবাহ বহির্ভূতভাবে অন্য কোন নারীকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী’। (সূরা: মুমিনূন: আয়াত নং ০৫,০৬, এবং ০৭)

পরিবার এক্ষেত্রে সরব ভূমিকা পালন করে।অপরাধ বলে বিশ্বাস করতে চায় না। মেনে নিতে চায় না- এটা এক মহা অন্যায়!
কিন্তু যুবক যুবতীদের উদ্যাম যৌবনের উন্মাদনায় ঘটে যাওয়া অপরাধের দায়ভার কি কখনো নেবে এই সমাজ কিংবা পরিবার? কোন মুসলিম সমাজ কি আদৌ এই অপরাধবোধের দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারবে?

৩. সামাজিক সঙ্কট: মুসলিম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আজ ছড়িয়ে পড়েছে পাশ্চাত্য সভ্যতা এবং কুফুরি সংস্কৃতির আহুত শেকড়। ফলে বোদ্ধামহল যেমন পশ্চিমা সংস্কৃতির রাখালির দায়িত্ব পেয়ে অপসাংস্কৃতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ তেমনি অশিক্ষিত সমাজও তা বাস্তবায়নে কালবিলম্ব করতে নারাজ বরং তা বাস্তবায়নে তৎপর ভূমিকা পালন করছে।

যার ফলাফল দাঁড়াচ্ছে- নির্ধারিত মেয়াদে উত্তীর্ণ হবার আগে একটি সুন্দর এবং সুখময় জীবনের প্রত্যাশায় বৈধ পন্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ!

বিপরীতে যৌবনের উন্মাদনায় অসামাজিকভাবে প্রেম-পরকিয়ায় জড়িয়ে মুক্ত বাতাসের খোঁজ করাটা অনেকটাই সামাজিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।যা সম্পূর্ণ হারাম।জিনা।ব্যাভিচার!

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- মুমিন পুরুষদের বল- তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর।তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত!(সূরা:মুমিনূন: আয়াত নং ৩০)

এবং মুমিন নারীদের বল- তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং নিজেদের ভূষণ অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে, যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভূষণ যেন স্বামী পিতা শ্বশুর পুত্র স্বামীর পুত্র ভাই ভাতিজা ভাগিনেয় আপন নারীগণ- যারা নিজ মালিকানাধীন- যৌনকামনা নেই এমন পুরুষ খেদমতগার এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে। মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা যাতে তাদের গুপ্ত সাজ জানা হয়ে যায়।হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর- যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার। (সূরা:মুমিনূন: আয়াত নং ৩১)

মনে রাখতে হবে- মানবরচিত আইন প্রকারান্তরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে উৎসাহ দেয়।এবং ছোট একটি সুতো দিয়ে অপরাধের জায়গাটাকে আলাদা করার চেষ্টা করে। ফলে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক প্রেম পরকীয়া বেড়েই চলে।ধর্ষণ হতেই থাকে।ধর্ষিতারা আত্মহনন করতেই থাকে। ওদিকে আল্লাহ তায়ালার আইন ধর্ষণের শুরুতেই টুটি চেপে ধরে।বলা হয়েছে- ‘ব্যভিচারিণী এবং ব্যভিচারী-তাদের প্রত্যেককে একশত চাবুক মারবে। তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখ- তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি করুণাবোধ যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে।আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।(সূরা: নূর; আয়াত নং ০২)

বিবাহ যতদিন কঠিন থাকবে ততদিন ধর্ষণ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক সহজ থাকবে। এটাই পৃথিবীর নিয়ম! সুতরাং পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব এবং অভিভাবকদের কর্তব্য হল- সময়মত বিয়ে করার ব্যাপারে সন্তানদেরকে উৎসাহিত করা এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা। এবং বিবাহ পরবর্তী জীবনে সাংসারিক দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার যোগ্য করে তোলা।

আশ্চর্য! স্কুল-কলেজে শারীরিক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতার শিক্ষা দেয়া হয়।এইডস সম্পর্কিত সচেতনতায় বিলবোর্ড প্রস্তুত করা হয় কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে কিছুই করা হয় না। অতিরিক্ত- কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিয়ের ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনুৎসাহিত করা হয় এবং ইসলামের এক শাশ্বত বিধানের ব্যাপারে বিষোদগার করা হয়।যা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক! আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ সমঝ দান করুন।

লেখক: নালিতাবাড়ী শেরপুর ময়মনসিংহ।

সর্বশেষ সব সংবাদ