মুফতি তাকি উসমানি।।
আলেম সমাজকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, এমন শ্লোগান আজ কাল হর-হামেশাই শােনা যাচ্ছে। জাতীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মুখ থেকে প্রায়ই উচ্চারিত হচ্ছে এই বাক্য। উঁচু স্তরের কোন সাধারণ মজলিসে ধর্মীয় আলােচনা আসলেই এখন এই বাক্যের প্রতিধ্বনি শােনা যায়। সমাজের যেই শ্রেণীর মানুষ আজ প্রগতিবাদের আড়ালে ইসলামের সর্বসম্মত মূলনীতি ও বিধানকে কাটছাট করার কাজে নিরত আছেন, উলামায়ে হককে তারা তাদের পথের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক মনে করছেন।
উলামায়ে হকের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া এবং তাদের সমালােচনা করাকেই তারা স্বীয় জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন। এ কারণে, নবীন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার জন্য 'যুগচাহিদা’র অস্পষ্ট বাক্যটিকে তারা উৎকৃষ্ট শ্লোগান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর সাহায্যে তারা আজ জাতির কাছে প্রতিনিয়ত আপিল জানচ্ছেন, আলেমগণ উন্নতি-অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় এবং সমাজের বােঝা স্বরূপ। অতএব তাদের কোন কথাই গ্রহণযােগ্য নয়।
এই সকল লােকের বিষয় আমরা আল্লাহর উপর ন্যস্ত করছি, যিনি সকলের মনের যাবতীয় গােপন রহস্য সম্পর্কে অবগত। তবে সমাজে এমন কিছু লােক আছেন, যারা আলেমদের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ধারণা পােষণ করেন যে, তারা আধুনিক যুগ-চাহিদা সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন, তাই তারা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয়ের বিরােধিতা করেন।
এমন লােকদের সম্পর্কে কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি। তবে আলােচনার পূর্বে আমাদের নিবেদন হল, বাস্তবিকই যদি তারা নিষ্ঠার সাথে ইসলাম ও মুসলমানদের মঙ্গলকামী হয়ে থাকেন, তাহলে অত্যন্ত স্থির ও শান্ত মেজাজে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন। এবং কিছু সময়ের জন্য আবেগপূর্ণ শ্লোগানের মােহ থেকে মস্তিষ্ককে মুক্ত করে একটু ভাবতে চেষ্টা করবেন যে, 'যুগ-চাহিদার প্রকৃতস অর্থ কী? তা পূর্ণ করার প্রকৃত পন্থা ও পদ্ধতিই বা কী? এ ব্যাপারে।
আলেমদের উপর যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, ঘটনাবহুল পৃথিবীতে তার বাস্তবতা কতটুকু? সর্বপ্রথম নির্ধারণ করার বিষয় হল, যুগ-চাহিদা পুরনের অর্থ কী? আমার মনে হয় রাত-দিন যারা যুগ-চাহিদার গুরুত্বের সবক দানে নিরত তাদের মাথায়ও এ সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট ধারণা নেই। সারাক্ষণ তারা এই অস্পষ্ট শ্লোগান দিয়ে আসছেন যে, উলামায়ে কিরাম যুগ-চাহিদার পরিপন্থী। কিন্তু তারা কখনাে পরিষ্কার করে বলেননি, সেই চাহিদাটা কী; যার বিরোধিতায় আলেমগণ উঠে-পড়ে লেগেছেন।
যুগ-চাহিদার অর্থ যদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলাের