fbpx
           
       
           
       
কাব্য-সাহিত্যের সাথে আমার যেভাবে প্রথম পরিচয় ঘটে: মুফতি তাকি উসমানি
নভেম্বর ০৭, ২০২১ ৮:৫০ অপরাহ্ণ

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী یادیں ইয়াদেঁ  মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি রোববার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো ৫০ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ উমর ফারুক ইবরাহীমী।]


পূর্ব প্রকাশের পর: হযরত মাওলানা সাহবান মাহমূদ সাহেব রহ. নিয়মিত সবকের সাথে কাব্য-সাহিত্যের বীজও আমার কচি মননে ও হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন।

হযরত নিজেও কাব্যকোবিদ ও কাব্যরসিক ছিলেন। চমৎকার কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে পারতেন। বিভিন্ন সময়ে দরসে তিনি নিজের পছন্দনীয় কবিতামালা শুধু আবৃত্তি করেই ক্ষান্ত হতেননা, সাহিত্যের বিচারে তার মান নির্ণয় সহ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াদিও বাচবিচার করে বুঝিয়ে দিতেন।

আবার কখনো কবিতার এক পঙক্তি শুনিয়ে বলতেন অপর পঙক্তি তোমরা বের করো। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে বের করে এনে হযরতকে দেখাতাম, তিনি সংশোধন করে দিতেন।

অপরদিকে আমাদের ঘরেও শিল্প-সাহিত্যের ব্যাপক চর্চা ছিল, যেটা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আব্বাজান রহ. কেবল উর্দূ ভাষায় নয় বরং আরবি, ফার্সি ভাষায়ও প্রচুর পরিমাণে কবিতা আবৃত্তি করতেন। আমাদের বড় ভাই হযরত যাকি কাইফি রহ. তো নিয়মিত কবি-ই ছিলেন। সে সুবাদে আমাদের ঘরে হরহামেশাই দেশসেরা কবি-সাহিত্যিকদের যাতায়াত ও বিচরণ ছিলো। আমাদের বোনদেরও শিল্প-সাহিত্যের প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। আমার ভাই জনাব মুহাম্মদ ওলি রাযি সাহেবও কবিতা আবৃত্তি করতেন। সে সুবাদে ঘরেই আমাদের আনন্দ-ফুর্তির যাবতীয় উপকরণ মজুত ছিলো।

কখনো সব ভাইবোনদের মিলনমেলা হলে সম্মিলিত কবিতা আবৃত্তির বাহাস বা ডিবেট শুরু হয়ে যেতো। কেউ ভালো কোন কবিতা বা সঙ্গীত পড়লে বা শুনলে অন্যদেরও সেটা শোনাতো এবং সবাই মিলে উপভোগ করতো। আবার কখনো ঘরে সাহিত্যের আসর বসতো। ছোট আপা হাফিজ জালান্ধারি’র “শাহনামা ইসলাম” সাময়িকী থেকে গল্প-কবিতা পড়ে শোনাতেন। আমরা অনুজরা তন্ময় হয়ে শুনতাম।

এমনই এক সাহিত্য ও কাব্যিক পরিবেশের কারণে ছোট সময় থেকে আমার ভেতরেও কবিতা ও সাহিত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আগ্রহ জন্মে গিয়েছিলো। মাত্র নয় বছর বয়সেই আমার বহু কবিতা ও সংগীত ঠোঁটস্থ হয়ে গিয়েছিলো। সেসময়ে “সাথী” নামে কচিকাঁচাদের একটি সাময়িকী প্রকাশ পেতো। আমার বড় ভাই জনাব রাযি কাইফি রহ. আমার নামেও একটি সংখ্যা জারি করে রেখেছিলেন। সেটি হাতে পেলে তো আমি বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠতাম।

আমি প্রতিমাসে অধীর আগ্রহে পত্রিকাটির প্রহর গুনতাম। মাসের শুরুতে ডাক পানে চেয়ে থাকতাম। হাতে পৌঁছার পর শুরু থেকে শেষ অবধি পড়া ছাড়া আমার বিরাম নেই! একপর্যায়ে ধীরেধীরে আমারও কলম হাতে নেয়ার হিম্মত ও আগ্রহ জাগতে শুরু করেছে।

চলবে ইনশাআল্লাহ….

-এটি