fbpx
           
       
           
       
মুফতি তাকি উসমানির ধারাবাহিক আত্মজীবনী ইয়াদেঁ এর ৩৮ তম পর্ব
আগস্ট ২৫, ২০২১ ১০:১৮ অপরাহ্ণ

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি রোববার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো ৩৮ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ উমর ফারুক ইবরাহীমী।]


পূর্ব প্রকাশের পর: মসজিদে কোবার পশ্চিম দরজার সামনে একটি বাগান ছিল। এই বাগানেই সেই সুপ্রসিদ্ধ কূপ ছিলো যার আলোচনা হাদীস শরীফে بٸر اریس “বি’রে আরীস” নামে এসেছে। সহীহ বুখারীতে এই কূপের ব্যাপারে এভাবে বর্ণনা এসেছে-

রেওয়াতের সারমর্ম হচ্ছে, হযরত আবু সাইদ খুদরি রা. বলেন, আমি একদিন মনেমনে স্থির করলাম, আজ সারাদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থাকবো।

আমি মসজিদে নববী গেলে সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা পেলামনা। উপস্থিত লোকেরা আমাকে একটি বিশেষ স্থানের দিকে ইশারা করে দেখালেন যে তিনি ওদিকে গেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালাশে ওদিকে ছুটলাম।

দেখতে পেলাম তিনি বি’রে আরীস’এ আগমন করেছেন। তিনি জাগতিক প্রয়োজন সেরে অযু করলেন এবং শেষে তিনি তাঁর পায়ের গোড়ালি মোবারক খুললেন। এরপর তিনি পা মোবারক কূপে ঝুলিয়ে বসে পড়লেন।

হযরত আবু মুসা আশ’আরী রা বলেন, আমি বাগানের প্রবেশপথে পৌছে স্থির করলাম, আজ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দারোয়ানের দায়িত্ব আঞ্জাম দেবো। এতক্ষণে হযর‍ত আবু বকর রা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি এসে দরজা ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে?

তিনি জবাব দিলেন আবু বকর। আমি বললাম, একটু অপেক্ষা করতে হবে!

আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আরয করলাম, আবু বকর এসেছেন, তিনি ভেতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আসতে বলো, এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও।”
সুতরাং তিনি ভেতরে আসলেন, এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঠিক ডানদিকে কূপে পা ঝুলিয়ে বসে পড়লেন।
হযরত আবু মুসা রা বলেন, ফিরে এসে আমি ফের দরজায় বসে পড়লাম।

আমি এখানে আসার সময় আমার ভাইকে অযু করা অবস্থায় দেখে এসেছিলাম। আমি ভাবছিলাম, যদি সেও এখন চলে আসে অনেক ভালো হবে। ( যেনো তার জন্যও ভেতরে আসার অনুমতি নিতে পারি এবং সেও জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে যায়।)

ফের কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়লেন। এবার হযরত উমর রা আসলেন। আমি তার জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে অনুমতি চাইলাম।

তিনি তাকেও অনুমতি দিয়ে দিলেন এবং সাথে জান্নাতের সুসংবাদও দিলেন। তিনি এসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসে পড়লেন। ফের হযরত উসমান রা আসলেন। তিনি তাকেও অনুমতি দিলেন এবং বললেন, তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও, সাথে একটি পরীক্ষারও যার সম্মুখীন তিনি হবেন।

এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুপাশে আর জায়গা নেই, তাই তিনি হুজুরের সামনের দিকে কূপে পা ঝুলিয়ে বসে পড়লেন।

হযরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব রহ যিনি এই হাদিস হযরত আবু মুসা আশ’আরী রা থেকে বর্ননা করছেন তিনি এই ঘটনা বয়ান করে বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আমার কাছে এদিকে ইশারা মনে হলো যে, হুজুরের ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর রা এবং হযরত উমর রা এর কবর তো হুজুরের সাথেই হয়েছে। কিন্তু হুযরত উসমান রা এর কবর তাঁদের সাথে হবেনা বরং তাঁদের সামনে “বাকী” তে। (সহীহ বুখারী, মানাকিব।)

হযরত আব্বাজান রহ এই কূপের কাছে পৌছলে তিনিও কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন। ভাইজানও বসলেন। তাদেরকে অনুসরণ করে আমিও পা ঝুলিয়ে বসলাম।

চলবে ইনশাআল্লাহ….

-এটি