ফরহাদ খান নাঈম
গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে কোনো পুরুষের জন্য মুসাফাহা না করে শুধুমাত্র সালাম বিনিময় করাতে কোনো সমস্যা নেই, যদি সে মহিলা বয়স্ক হয়। আর যদি সে মহিলা যুবতী হয়, তবে তার সাথে সালাম বিনিময় করা উচিত হবে না; কেননা এতে করে যে ফিতনা সৃষ্টি হবে না, এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ইসলামিক স্কলারগণের মন্তব্য সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে এমনটিই বুঝে আসে।
ইমাম মালিক রহ. এর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, কোনো মহিলার সাথে কি সালাম বিনিময় করা যাবে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, যদি সেই মহিলা বয়স্ক হয়, তবে আমি এটিকে মাকরুহ মনে করিনা। আর যদি সে যুবতী হয়, তবে তার সাথে সালাম বিনিময় করাটা আমি পছন্দ করিনা।
ইমাম মালিক রহ. কেনো এটিকে পছন্দ করতেন না এর ব্যাখ্যায় আল জারকানি রহ. তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আলমুয়াত্তায় উল্লেখ করেছেন: যখন যুবক কোনো যুবতীকে সালাম দেয়, তখন সে তার সালামের উত্তর শুনলে তার মনে শয়তান কুপ্ররোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
আদাবুশ শরীয়াহ (১/৩৭০) এ উল্লেখ করা হয়েছে: ইবনে মুফলিহ বলেন, ইবনে মানসুর একবার ইমাম আহমদ রহ. এর কাছে মহিলাদেরকে সালাম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, যদি সে মহিলা বৃদ্ধ হয়, তাতে কোনো সমস্যা নেই।
ইমাম নববী রহ. তাঁর আজকার গ্রন্থে (পৃ. ৪০৭) বলেন, কোনো মহিলা অপর মহিলাকে সালাম দেওয়া পুরুষ পুরুষকে সালাম দেওয়ার মতো। আর যদি কোনো মহিলা কোনো পুরুষকে সালাম দেয়, আর সেই মহিলা যদি তার স্ত্রী হয় অথবা মাহরাম কেউ হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই বরং এমন ক্ষেত্রে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে কথা শুরু করা মুস্তাহাব।
কিন্তু সে মহিলা যদি গায়রে মাহরাম ও সুন্দরী হয়, তাহলে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে উভয়ের মনে শয়তানের কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা থাকায় সেই পুরুষের জন্য তাকে সালাম দেওয়া জায়েজ নেই। আর যদি পুরুষ তাকে সালাম দিয়েই বসে, তবে তার জন্য সে সালামের উত্তর দেওয়া জায়েজ নেই। আর সে মহিলার জন্যও তাকে সালাম দেওয়ার অনুমতি নেই। যদি সে মহিলা সালাম দেয়, তাহলে তার ওই সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব নয়। যদি কোনো পুরুষ তার সালামের উত্তর দেয় তাহলে এটা মাকরুহ হবে।
আর যদি উক্ত মহিলা বৃদ্ধ হয় এবং দুজনের কারো মনে শয়তানের কুমন্ত্রণা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে উভয়ের জন্য সালাম বিনিময় করা জায়েজ আছে।
কয়েকজন মহিলার একটি দল যদি কোনো পুরুষকে সালাম দেয় কিংবা কয়েকজন পুরুষের একটি দল কোনো মহিলাকে সালাম দেয়, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই, যদি ফিতনার ভয় না থাকে।
আবু দাউদ রহ. (৫২০৪) বর্ণনা করেন, ইয়াজিদের কন্যা আসমা রা. বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের একটি দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং তাদেরকে সালাম দিলেন।
সাহল ইবনু সা‘দ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুয়ার দিনে খুশি হতাম। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, কেনো? তিনি বললেন, আমাদের একজন বৃদ্ধা মহিলা ছিলো। সে একজন লোককে ‘বুদাআ’ নামক খেজুর বাগানে পাঠিয়ে বীট চিনির শিকড় আনতো।
তা একটি হাঁড়িতে দিয়ে সে তাতে কিছুটা যবের দানা দিয়ে ঘুঁটে এক রকম খাবার তৈরী করত। এরপর আমরা যখন জুমুয়ার সালাত আদায় করে ফিরতাম, তখন আমরা ঐ মহিলাকে সালাম দিতাম। তখন সে আমাদের ঐ খাবার পরিবেশন করতো। বুখারি: ৬২৪৮।
এক কথায়, নারী-পুরুষের মধ্যে সালাম আদান-প্রদানের অনুমতি রয়েছে শুধুমাত্র তখনই যখন ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার কোন ভয় না থাকে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সব ভুলের উর্ধ্বে ছিলেন এবং সব ধরনের ফেতনা থেকে সুরক্ষিত ছিলেন। এখন কেউ যদি নিজেকে ফিতনা থেকে মুক্ত রাখার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে সে কোনো নারীকে সালাম দিতে পারে। অন্যথায় তাকে সালাম না দিয়ে চুপ থাকতে হবে।
-এটি