মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ।। ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ ।। ১৭ শাবান ১৪৪৫


করোনাকালে আটকে আছে শিক্ষকদের বেতন: মাদরাসার মুহতামিম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা মহামারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম নীতি মেনে চলছে পৃথিবী। বাংলাদেশ ও তার বাইরে নয়। ধাপে ধাপে লকডাউনে যাচ্ছে ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এ ছোট দেশ। এদিকে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়ে এখন চলছে তৃতীয় ঢেউ। বাংলাদেশ সরকার করোনা শুরু হওয়ার পর গতবছরের ১৭ মার্চ বন্ধ করে দেয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এপর সে বছরের ১২ জুন দেশের কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দিলেও চলতি বছরের ৮ এপ্রিল আবার বন্ধ করে দেয় সব মাদরাসা। বর্তমান সীমিত পরিসরে জারী করা চলমান লকডাউন থাকবে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

এ দীর্ঘ সময় জেনারেল সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বেতন জারী থাকলেও বন্ধ রয়েছে দেশের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও প্রায় ৪০ হাজার কওমি মাদরাসায় খেদমাত করা শিক্ষকদের বেতন। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠার মাঝে সময় পার করছেন মাদরাসার মুহতামিমরা। করোনাকালের এ বেদনার কথা-ই ধারাবাহিক প্রকাশিত হচ্ছে আওয়ার ইসলামে। আজ দেশের খ্যাতিমান দুইজন মুহতামিমের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের সাথে কথা বলে ধারা প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ।


করোনাকালে আটকে আছে শিক্ষকদের বেতন: মাওলানা শামসুল হক
মুহতামিম, মদিনাতুল উলুম কওমি মহিলা মাদ্রাসা ও সর্টকোর্স পুরুষ শাখা, টঙ্গীবাড়ী, গোপালগঞ্জ

করোনাকালের কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই এ মুহতামিম বলেন, ‘আমাদের মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন আটকে আছে। করোনার কারণে সেভাবে কালেকশন নেই। তাই বেতনও পরিশোধ করতে পারিনি।

করোনার এই দু:সময়ে কেমন থাকবো সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা আমাদের প্রধান কর্মক্ষেত্র মাদ্রাসাগুলো বন্ধ। এতে করে একদিকে যেমন ইলমে দীনের বিকাশে ঘাটতি হচ্ছে, অপরদিকে ইলমে দ্বীন অন্বেষণকারী তালিবুল ইলমরা হারিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে এ মুহতামিম বলেন, বিগত বছর আমাদের মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তি সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। করোনাকালীন লকডাউন এর কারণে এ বছর মাত্র ২০০ জন ছাত্র ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ছাত্রদের ভর্তি থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে কখনো শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হতো। এবছর ছাত্র কম ভর্তি হওয়ায় সকল শিক্ষকদের বেতন আমরা এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। মোট বেতনের প্রায় ৪০% শতাংশই এখনো বকেয়া রয়ে গেছে।

অন্যান্য মাদ্রাসার মুহতামিমদের পরামর্শ দিয়ে এই মুহতামিম বলেন, এখন আমাদের একটাই কাজ। সেটা হলো দোয়া করা। কেননা দোয়াই একমাত্র মুমিনের হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলা যে কোন বালা-মুসিবত দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারেন। এজন্য সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আমাদের পাপের কারণেই হয়তো এ ধরনের গজব আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে। তাই বেশি বেশি করে দোয়া করে এই গজব থেকে মুক্তি চাওয়া।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের তেমন কিছু বলার নেই। সরকার আমাদের জন্য যে পদক্ষেপ নিবেন সেটা অবশ্যই ভালোর জন্য নিবেন। দুনিয়া হলো আসবাবের জায়গা। সে হিসেবে সরকার লকডাউনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে সরকারের প্রতি অনুরোধ করবো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়ার জন্য। হেফজ ও মক্তবের ছেলেরা যখন কোরআন পাঠ করবে, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করবে। তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আজাব-গজব দূর করে দিবেন। ইনশাআল্লাহ।


লকডাউনে আমাদের অবস্থা খুবই নাজুক: মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন
মুহতামিম, দারুল উলুম ফয়জে আম কওমি মাদ্রাসা, সদর, ঠাকুরগাঁও

দেশের প্রত্যন্ত বর্ডার অঞ্চল ঠাকুরগাঁও জেলার দারুল উলুম ফয়জে আম কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন,

করোনা নিয়ে কী বলব? সবার যা অবস্থা আমাদেরও সে একই অবস্থা। করোনাকালে মানুষের দোকানপাট বন্ধ। তাদের আয় রোজগারের পথ বন্ধ। কওমি মাদরাসাগুলো চলে সাধারণ মানুষের দানের টাকায়। তাদের আয় বন্ধ মানে আমাদের কওমি মাদ্রাসাগুলোর আয়ের উৎসও বন্ধ। কেননা কওমি মাদ্রাসার একটি বড় অংশ হলো সাধারণ মানুষের দান। তাদের ইনকাম বন্ধ থাকায় তারা সেভাবে দানের হাত প্রসারিত করতে পারছেন না। তাই করোনাকালে আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরা ততো ভালো নেই।

তিনি বলেন, আমার মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন এখনো অনেক বাকি। প্রথমবার যখন লকডাউন ঘোষণা হয়েছিল তখনই চার মাস বেতন বাকি ছিল। কিন্তু গত বছরের ১২ জুন মাদ্রাসা খোলার পর ধীরে ধীরে কিছু পরিশোধ করার সুযোগ হয়েছে। তবে এবার আবার যখন পুনরায় লকডাউন ঘোষণা হলো তখনও আমাদের অনেক বেতন বকেয়া রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমাদের মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যা রয়েছে ২০০ জন। আর শিক্ষকসহ স্টাফ আছেন প্রায় ১৯ জন। আমরা নিয়মিত শিক্ষকদের বেতন সেভাবে দিতে পারি না। গত রমজানে আমাদের সাধারণ তহবিল ও গোরাবা তহবিলে তেমন কোনো দান পাইনি। তাই তাদের বেতনও পরিশোধ করতে পারিনি।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের একটাই কথা, মাদ্রাসাগুলো খুলে দিন। সেই সাথে জনগণের দোকানপাটও খুলে দিন। এ ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর