শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ: শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়’ ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

বজ্রপাতের সময় যে দোয়া পড়তেন রাসুল সা.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাহমুদ আহমদ বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক যে কোন বিপর্যয়ের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে বিচলিত না হয়ে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে বজ্রপাত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি ভীতি ও আশা সঞ্চার করতে তোমাদেরকে বিদ্যুতের চমক দেখান এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা। আর বজ্রধ্বনি তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তাঁর ভয়ে ফেরেশতারাও (তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে থাকে)। আর তিনি বজ্রপাত করেন এবং যাকে চান এর মাধ্যমে বিপদাপন্ন করেন। তারা আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতণ্ডা করে থাকে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।’’ (সুরা আর রাদ: আয়াত ১২-১৩)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত) সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদাপদে তারা বিচলিত না হয়ে নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া- ‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’ অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান: আয়াত ১২)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি যে লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি তা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন?’ এর জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ভেবে শঙ্কিত হই যে বৃষ্টি আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না। কেননা আগের উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে (বৃষ্টি বর্ষণের আকারে) আজাব পতিত হয়েছিল।’ (মুসলিম)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের শব্দ শুনতে পেতেন তখন বলতেন- ‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআ’জা বিকা ওয়া আ’ফিনা ক্বাবলা জালিক।’ (মুসনাদে আহমদ তিরমিজি)

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার ক্রোধ দ্বারা হত্যা কর না, আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস কর না বরং এর পূর্বেই আমাদেরকে ক্ষমা কর।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) বজ্রপাতের শব্দ শুনলেই পড়তেন, ‘সুবহানাল্লাজি ইয়ুসাব্বিহুর রা‘অদু বিহামদিহি।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ইবনে আবি জাকারিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়া পড়বে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, সে বজ্রে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় এবং মহামারি সহ সব ধরনের বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন এবং তার কৃপার চাদরে আবৃত করে নিন, আমিন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ