রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ।। ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৬ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, ২৬ দিন পর দেশে ফিরলো দুই প্রবাসীর লাশ লেবাননে হামলা বন্ধ করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু মাদারীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে ইরানের প্রতিনিধি দল ইসলামপন্থিদের শক্তিশালী মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে হবে: আমিরে মজলিস ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পুরস্কার পেল ৯ কিশোর বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলাটা সঠিক হয়নি: জামায়াত এমপি খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানব্যবস্থায় স্বচ্ছতার উদ্যোগ, প্রশংসায় ভাসছে প্রশাসন শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানবাক্সের নিরাপত্তায় এবার বসল সিসি টিভি

পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো হিজড়াদের জন্য মাদরাসা চালু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসা চালু করা হয়েছে। মাদরাসাটি চালু করেছেন রানী খান নামের একজন হিজড়া।

মাথায় সাদা রঙের একটা শাল বেঁধে রানী খান প্রতিদিন অন্য হিজড়াদের কোরআন শরীফ পড়তে শেখান। নিজের জীবনে সব সঞ্চয় ব্যবহার করে এই মাদরাসা চালু করেছেন তিনি।খবর এনডিটিভির।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ৩৪ বছর বয়সী রানী খান বলেন, বেশির ভাগ পরিবারই হিজড়াদের ঘর থেকে বের করে দেয়। তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়। একসময় আমি নিজেও তাদের মতো কষ্টভোগ করেছি। এক পর্যায়ে চোখের পানি মুছে রানী বলেন, আমার পরিবার আমাকে ১৩ বছর বয়সে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমাকে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষে করতে হয়।

১৭ বছর বয়সে রানী একটি হিজড়া সঙ্গে ভিড়ে যান। গ্রুপটি বিয়ের উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করে টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু তার মনে সব সময় একটা স্বপ্ন ছিল- তিনি নিজের সমজাতীয়দের জন্য কিছু একটা করবেন।

যখন পরিবারের সঙ্গে ছিলেন তখন রানী কোরআন পড়তে শিখেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে নিজে মাদরাসা খোলার আগে দেশের মাদরাসাগুলোতেও যাতায়াত করেন তিনি।

রানী বলেন, আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য মাদরাসা খুলেছি। এখানে আমার শ্রেণির মানুষের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তারা এখানে নামাজ পড়তে পারবে এবং বিগত জীবনের ভুল বা পাপের জন্য আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করতে পারবে।

রানীর মাদরাসাটি পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুদান পায়নি। অবশ্য কিছু কিছু কর্মকর্তা এখানকার ছাত্রদের সহযোগিতা করবেন এবং তাদের চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শুধু কোরআন শিক্ষা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না রানি খান। তিনি তার ছাত্রদের এম্ব্রয়ডারি, সেলাইসহ নানা হাতের কাজে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ছাত্ররা মাদরাসা ছাড়ার পর নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কাপড়চোপড় বিক্রি করে তিনি স্কুলের জন্য তহবিলও গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে হিজড়াদের ২০১৮ সালে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ভোটাধিকার এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেরে জেন্ডার বেছে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে ২০১৭ সালের আদমশুসমারি অনুযায়ী হিজড়াদের সংখ্যা এক লাখ। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে এ সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ