fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
মুখে ঘা: কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার
মার্চ ০৩, ২০২১ ৭:০২ অপরাহ্ণ

ডা.রিফাত আল মাজিদ।।

মুখে ঘা এর সমস্যায় কম-বেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। প্রায় দুইশ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায় মুখগহ্বরে ঘা এর মাধ্যমে। বর্তমান কালের মরণঘাতী রোগ এইডস থেকে শুরু করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এমনকি গর্ভাবস্থায়ও অনেক রোগের লক্ষণ মুখের ভেতরে প্রকাশ পায়। মুখের ভেতরের মাংসে বা জিহ্বায় ঘা হয়, ব্যথা করতে থাকে, কিছু খেতে গেলে জ্বলে-এগুলোই মুখে ঘা এর প্রাথমিক লক্ষণ। অনেকের এসবের সাথে সাথে মুখ ফুলে যেতে পারে, পুঁজও বের হয়।

কারণসমূহ: পুষ্টির অভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১২ অভাবে ঘা হয়। এছাড়াও কৃত্রিম চিনি দ্বারা তৈরী খাদ্য যথা- চকলেট, জুস, কোক, চুইংগাম ইত্যাদি। আঘাতের কারনে ক্ষত হলে, সেটা ছোট শারীরিক ক্ষত কিংবা রাসায়নিক ভাবে ক্ষত যাই হোক।

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া- ক্যামোথেরাপি, HIV ইত্যাদি। বার বার মুখের ঘা এর পিছনে প্রধান কারণ খারাপ মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি।

মুখে ক্যানসার হলে যেমন- তামাক (সিগারেট, গুল, জর্দা ইত্যাদি) সেবন করার কারনে স্কুয়ামাস সেল কারসিনোমা নামে হয়। পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক রসের( HCl) বিরুপ প্রভাব এর কারণে মুখে বার বার ঘা দেখা দেয়। উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রায়ই মুখে ক্ষত তৈরি করে, যদি ভিটামিন বি কম্পেক্স এর সঙ্গে সহযোগী খাবার হিসেবে না দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু টুথ পেস্ট, মাউথ ওয়াশ ইত্যাদিতে এলার্জি প্রতিক্রিয়া থাকাতে পারে। মানসিক চাপ অনেক সময়ই মুখের ঘা বৃদ্ধি করে (Psychosomatic)।

বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে,এটা মূলত ইনহেলার ও উচ্চমাত্রার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্যও হতে পারে।সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ভিটামিন বি সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন রোগীদের।

প্রতিকার
মুখ ও দাঁতের যত্ন নিতে হবে।প্রতিদিন নিয়মিত দাত ব্রাস করতে হবে।ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভাল করে দাত ব্রাস করতে হবে।প্রয়োজনে মাউথ ওয়াস ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুখের মধ্যে কোনো ফুস্কুড়ি হলে অবহেলা না করে অবিলম্বে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পূরক খাবার এবং সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে (প্রতি দিন কমপক্ষে ১০ গ্লাস)।গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার দিকে নজর রাখতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ মাত্রায় ওষুধ খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত ঝাল, টক এড়িয়ে চলা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর সাইকোট্রমাটোলজি এন্ড রিসার্চ।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ