fbpx
           
       
           
       
একজন কল্পিত আব্দুল্লাহ’র হাসি ও তার মা
মার্চ ০২, ২০২১ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

হিফজুর রহমান হাম্মাদ ।।

ছবিটা দেখে নিজেকে মানুষ দাবী করতে লজ্জা লাগছে। সমাজে লক্ষ লক্ষ বিত্তবান পুরুষ থাকতে একজন মহিলা অসহায় থাকতে পারে! প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়ত এই ছবি অন্য কোনো দেশের। পরে খেয়াল করে দেখলাম বাচ্ছার সামনে রাখা বাটিতে বাংলাদেশি টাকা। এতে বুঝলাম ছবিটা এই বাংলারই কোনো নীড়হারা বোনের।

নিজের আগামী ও ভবিষ্যৎ না জানা এই ছেলেটার হাসি আমার কাছে আপন ভাগ্নের হাসির মতোই লাগছে। পর্দাবৃত বোনকে আমার সহোদর মনে করে আমি খুব জন্ত্রণায় আছি। ছেলেটা ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় তকিয়ে এক নিষ্পাপ হাসি হাসছে। সে জানে না তার আগামী কতটা কঠিন। তার মা অবশ্যই জানেন এবং পদে পদে টেরও পাচ্ছেন। কেনো যে এই বাচ্ছা ও মহিলাকে আমার সহোদর মনে হচ্ছে আমি জানি না। একেবারে আমার আপন ভাগ্নে আব্দুল্লাহ’র মতোই হাসছে ছেলেটা।

আব্দুল্লাহ আমাকে দেখলে লুকোচুরি করে। আড়াল থেকে দেখে। হাসে। আনন্দ করে। এই নিরাশ্রয় বাচ্ছার হাসিতে আমি আব্দুল্লাহ’র লুকোচুরি খুঁজে পাচ্ছি। কী নাম বাবু তোমার? ধরে নিলাম, “আব্দুল্লাহ”।

আব্দুল্লাহ! তোমার ঠিকানা আমি জানি না। আল্লাহ যেনো তোমার ঠিকানায় এমন কাউকে ব্যবস্থা করে দেন- যিনি তোমার দায়িত্ব নেবেন। তোমার ফুটফুটে হাসির মূল্য দেবেন। খোলা আকাশের নিচ থেকে তোমাকে তুলে নেবেন কোনো এক আশ্রয়স্থলে। যেখান থেকে তুমি ও তোমার আম্মু একটা নিরাপদ জীবনের স্বাদ ফিরে পাবে।

ছবিটা দেখার পর আমার কয়েকটা চিন্তা মাথায় এসেছে।১, হয়ত এই আব্দুল্লাহ’র বাবা মারা গেছেন। এবং তাদের ফ্যামেলিতে আশ্রয় পাবার মতো কোনো শীতল ঠাঁই নেই।
তবে উচিৎ ছিলো, প্রতিবেশির মধ্য থেকে কেউ একজন আব্দুল্লাহ’র নিষ্পাপ হাসির মূল্যায়ন করবেন। তাক্বদিরের মু’য়ামালায় হয়তো আব্দুল্লাহদের কপালে তা জোটেনি। অবস্থা এমন হলে আল্লাহ ব্যবস্থা করুন।

২, হয়ত আব্দুল্লাহ’র “মা”-কে তার বাবা তালাক দিয়েছেন। শরঈ মোহরানা নির্ধারিত না থাকায় কিংবা থাকলেও অনাদায় হওয়ায় ভদ্র মহিলা নিরাশ্রয় হয়ে গেছেন। এবং তার পিত্রালয়ও তাকে গ্রহণ করছে না।
এমন পরিস্থিতিতে আব্দুল্লাহদের দূরাবস্থা কল্পনা করে আমি খুব ব্যথিত হচ্ছি। অবস্থা এমন হলে আল্লাহ এর সুন্দর সুরাহা করুন। আব্দুল্লাহ’র নির্মল হাসি যেনো খোলা আকাশেই মিলিয়ে না যায়।

৩, হয়তো স্বামীর খারাপ আচরণের কারণে অথবা স্ত্রী খারাপ হওয়ার কারণে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। ঘটনা এমন হলেওতো এই মহিলা আশ্রয়টুকু পাওয়ার অধিকার রাখেন। একজন পুরুষ ঘরহারা হওয়ার চে’ একজন মহিলা বাচ্ছাসহ ঘরহারা হওয়া অনেক বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক বিষয়। পরিস্থিতি এই দাঁড়ালেও আমি দোয়া করি, মহিলার কপালে একটা বিশ্বস্থ আশ্রয় জোটুক। যার বুকে মাথা রেখে তার বাকী জীবন নিরাপদ হবে। আব্দুল্লাহ ফিরে পাবে বাবার ছায়া।

সম্ভাবনা ও কল্পনায় অনেক কিছুই হাজির হচ্ছে। আসলে লেখার মতো ভাষা ও মানসিকতা এখন আমার নেই। আমি এই মহিলাকে আমার বোন, বাচ্ছাকে আমার ভাগ্নে ভেবে যে কষ্ট পাচ্ছি- আল্লাহ আমার কল্পিত আব্দুল্লাহ ও তার মায়ের একটা আশ্রয়স্থলের ব্যবস্থা করে দিলে হয়তো তা কমবে। এমন হাজারো অসহায় বাচ্ছা ও মায়ের অভাব হবে না সমাজে। আল্লাহ সবার জন্য উত্তম ফায়সালা করুন।

ছবিটা পেয়েছি মুহতারাম ওযায়ের আমীন হাফি.’র টাইমলাইনে। ওযায়ের আমিন ভাই যদি এই অসহায়দের চিনে থাকেন- তাহলে আমার কল্পিত আব্দুল্লাহ ও তার মায়ের জন্য একটা ব্যবস্থা করার অবুরোধ থাকবে।

-এটি