রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৯ রজব ১৪৪৭


আদনান মাসউদের ‘বৃটিশ প্রচ্যবিদদের সীরাতচর্চা’র মোড়ক উন্মোচন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম।।
নির্বাহী সম্পাদক>

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় মক্কা ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার ড. আমাল উবাইদ ছুবাইতী প্রণীত, তরুণ আলেম, লেখক, গবেষক মুফতি আদনান মাসউদ অনূদিত ‘বৃটিশ প্রাচ্যবিদদের সীরাতচর্চা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ‘বৃটিশ প্রচ্যবিদদের সীরাতচর্চা’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে শতাধিক গ্রন্থ প্রণেতা  মাওলানা নোমান আহমদ রহ. প্রতিষ্ঠিত শিবলী প্রকাশনী।

মাওলানা ইমদাদ আশরাফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মোহাম্মদী আশরাফুল মাদারিস মোহাম্মদপুর, ঢাকার শিক্ষাসচিব ও শাইখুল হাদিস, মাওলানা আশরাফ মাসরূর। সভাপতিত্ব করেন, দারুল উলুম কর্নপাড়া, উলাইল, সাভার, ঢাকার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

অনুষ্ঠানে মুফতি হিফজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের একসময় ইসলামি অঙ্গনে লেখালেখির মানুষ ছিলেন খুবই কম। মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ., শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এ জাতীয় হাতেগোনা কিছু মানুষ লেখালেখির খিদমত বাংলাদেশে শুরু করেছিলেন।

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ইসলামি অঙ্গনে যেভাবে লেখালেখিতে অগ্রসর হয়েছে, তাতে আমরা আশাবাদী। তবে এক্ষেত্রে দুটি বিষয় অবশ্যই বিবেচ্য। এক. গতানুগতিক লেখালেখি না করে, সময়ের চাহিদাকে সামনে রেখে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা। একই কাজ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে আসলে নিছক সংখ্যাই বৃদ্ধি করবে। দুই. যোগ্য মানুষের কলমে উপযুক্ত বিষয়বস্তু উঠে আসা। যেকেউ যেকোনো বিষয়ে কলম ধরার যোগ্যতা রাখে না।

আমি আদনান মাসউদকে মোবারকবাদ জানাই, সে সময়ের প্রয়োজনকে সামনে রেখে এমন একটি জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার সাহস করেছে।

No description available.

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ড. আমাল উবাইদ ছুবাইতী সম্পর্কে আমার তেমন বেশিকিছু জানা নেই, তবে বিভিন্ন ইলমী গবেষণায় প্রাচ্যবিদদের বিচরণ ও সেখানে নানান ধরণের সমস্যা, ইত্যাদি বিষয়গুলো খুবই গভীর পর্যায়ের। অন্যদিকে আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী রয়েছে, ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে যারা ঈমান আমল হারিয়ে ফেলে। এ ধরণের গবেষকরা, বুদ্ধিজীবিরা গবেষণা করার চেয়ে না করাই ভালো।

আমি মাওলানা নোমান আহমদ রহ. প্রতিষ্ঠিত শিবলী প্রকাশনীর শিবলী কে এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ কাজে এগিয়ে আসায় অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বিগত দীর্ঘ ২৫ বছরের শিক্ষকতার জীবনে যে কয়জন ছাত্রকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে নিজের একান্ত আপন ছাত্র হিসেবে পেয়েছি, আমার বিশ্বাস আদনান মাসউদ তাদের মধ্যে একজন। আমার ছাত্রদের মধ্যে যারা আমার থেকে অধিক উপকৃত হয়েছে, এক দুইজনের নাম যদি আমার স্মরণ হয়, আদনান মাসউদ তাদের মধ্যে প্রথম। সে কারণে আমি মনে করি, এই বইয়ে আদনান মাসউদের যতোটুকু কৃতিত্ব রয়েছে, সেখানে আমাদেরও কিছু অংশগ্রহণ আছে। আল্লাহপাক আদনান মাসউদের অবদানের সাথে আমাদের যতোটুকু মেহনত তার পিছনে আছে, সেটাকেও কবুল করুন। আগামী দিনে আদনান মাসউদকে উম্মাহের আরও বৃহত্তর খিদমতের তাওফীক দান করুন।

জামিয়াতুল মানহাল উত্তরার মুহাদ্দিস, বাইতুল করীম জামে মসজিদ, সাভার ঢাকার খতিব, অনুবাদক মুফতি আদনান মাসউদ অনূদিত গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন, একবিংশ শতাব্দিতে এসেও পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া কমেনি, ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কয়েক শতাব্দি ধরে এক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে প্রাচ্যবিদ্যা। রচনা-গবেষণার নাম করে ইসলাম ও নবীজীকে নিয়ে মিথ্যাচার, বিকৃতি ও ঘৃণার সয়লাব ঘটিয়ে দিয়েছে প্রাচ্যবিদরা।

বিস্ময়কর হলেও সত্য ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিম প্রাচ্যবিদদের রচনার সংখ্যা লাখেরও কাছাকাছি। কুরআন-হাদীস-সীরাত-ফিকহসহ ইসলামী প্রতিটি শাস্ত্রে রয়েছে তাদের বিপুল রচনাকর্ম। প্রাচ্যবিদ্যার প্রভাব শুধু পশ্চিমা বিশ্বেই সীমাবদ্ধ নয়, এতে প্রবলভাবে আক্রান্ত হয়েছে মুসলিম বিশ্বও। মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া বহু সন্তান ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করেছে প্রাচ্যবিদদের মিথ্যাচারী আয়নায়। ইসলাম সম্পর্কে বিকৃতি ও ঘৃণার চাষাবাদে প্রধানত তৎপর ছিল বৃটিশ প্রাচ্যবিদরা। পাঠকের হাতে থাকা গ্রন্থটি মূলত মাস্টার্সের একটি সন্দর্ভপত্র। প্রাচ্যবিদ্যার জন্ম, বৃটেনে প্রাচ্যবিদ্যার বিকাশ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কর্মপন্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা এসেছে এখানে। বিশেষভাবে তিন বৃটিশ প্রাচ্যবিদ টমাস কার্লাইল, টমাস আর্নল্ড এবং আলফ্রেড গিয়োম সীরাতশাস্ত্রে যে মিথ্যাচারগুলো করে গেছেন, সেসবের প্রামাণ্য উত্তর দেয়া হয়েছে গ্রন্থটিতে।

গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মুফতি মাহফুজুল হক, উপস্থিত ছিলেন, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ইফতা বিভাগের প্রধান, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, মুফতি হিফজুর রহমান, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদিস, মাওলানা মামুনুল হক, জামিয়াতুল মানহাল উত্তরা, ঢাকার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আযহারী, জামিয়া রাহমানিয়ার শিক্ষাসচিব, মুফতি আশরাফুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তরুণ আলেম লেখক ও প্রকাশকদের অনেকেই।

গ্রন্থটি রকমারি ও শিবলী প্রকাশনীসহ দেশের অভিজাত লাইব্রেরিগুলোতে পাওয়া যাবে। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৬৪, হার্ডকভার,
মূদ্রিত মূল্য ৪৫০ টাকা, ছাড় মূল্য ২২৫ টাকা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ