বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
শতবর্ষী কাদেমি মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার, বিকল্প জায়গা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের গোলাপগঞ্জে জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া ইদ্রিসিয়ার সম্মেলন ৯ নভেম্বর পেছাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা  মহিলারা ভ্রমণকালে নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ নভেম্বর পালনের নির্দেশনা জারি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ তিন মেগা প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ  কুরআনের খেদমত অব্যাহত রাখা ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি মুফতি তাকি উসমানী ও জালান্ধরীর সফরে বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজর কাড়ছেন মুসলিম প্রার্থীরা অনলাইন বিবাদে ইসলামেরই ক্ষতি হচ্ছে: শামসুদ্দোহা আশরাফী

শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলায় শোকজ, প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ এনেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

 শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রতিবাদ; হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষিকা লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্রিং-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী জামশেদ কুতুব পাশা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে। এছাড়া ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে এসব কর্মকাণ্ডের কিছু ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জুম্মার নামাজের পর অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একটি গ্রুপ ছবি তোলা হয়। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়, যা সরাসরি ধর্মীয় পক্ষপাত ও ইসলামবিদ্বেষের প্রকাশ। কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ইসলামবিদ্বেষ আরও স্পষ্ট হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। তারা অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার চান। একইসঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশের  মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং বিগত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবনতি ও ১৯ আগস্ট ২০২৪-এর দাবিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায় নিয়ে উপাচার্য (ভিসি)  কামরুল আহসানকে পদত্যাগ করতে হবে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ১৬(৮) অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজকে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ