বেলায়েত হুসাইন: সিরিয়ার ইদলিবে অবস্থতি ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. ও তার স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আবদুল মালিকের সমাধি সৌধ আসাদবাহিনীর হামলায় গত ২৮ মে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসলামের জন্য অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার মহান এ খলিফার কবরে আগুন জ্বালিয়ে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা ও সমাধি চত্বরের ঐতিহাসিক ইসলামি নিদর্শন চুরি করায় কট্টরপন্থী শিয়া নেতা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ বাহিনীর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ।
শনিবার আন্তর্জাতিক আলেমদের বৃহৎ এই সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল শায়খ আলি মুহিউদ্দিন কারা দাগি এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। এসময় তিনি বলেন, মৃত্যুর ১৩০০ বছর পরে খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. সমাধিসৌধের ওপর এই হামলা গভীর শত্রুতা ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। এই হামলার ঘটনা ব্যক্তিগত কোন আক্রোশ নয়; এটা বিপরীত বিশ্বাস ও আকিদার ফল, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার কবরের ওপর শিয়া বাহিনী আক্রমণ করেছে।
শায়খ কারা দাগি আরও বলেন, এই হামলা সমস্ত সুন্নি মুসলিম উম্মাহর ওপর হামলার শামিল। এর মাধ্যমে শুধু ফেতনা ও বিশৃঙ্খলার আগুনে তেল ঢালা হয়েছে।
এর আগে ২৭ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সিরিয়ার ইদলিবে অবস্থতি খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির সমাধি বাশার বাহিনী ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাধি সৌধ অবমাননা করছে।
এ সমাধি সৌধে আসাদ সরকারের এ অবমাননা এবারই প্রথম নয়, এর আগে গত ফেব্রয়ারিতেও তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও জানা যায়। সে সময় তারা এ শহরটি দখল করে এবং মাজারে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
প্রসঙ্গত, ইসলামের প্রধান চার খলিফার শাসনামলের পর খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের শাসনামলকে আদর্শ শাসনামল মনে করা হয়। ন্যায়-ইনসাফ, ইসলামি অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি স্থাপনের কারণে তাকে দ্বিতীয় ওমর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ প্রথমত বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়ত তিনি ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য ব্যাপক পরিচিত। তাকে হত্যা করার বিনিময়ে পাওয়া টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেছিলেন।
যে কারণে তার আমলেই জাকাত গ্রহণ করার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তিনিই ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করেছিলেন। একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। তাকে বিষ প্রয়োগে মারার জন্য চুক্তির টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সূত্র: আনাদুলু ও আল জাজিরা
