আবুল ফাতাহ কাসেমী।।
নদীর দীর্ঘ শ্বাস থেকে নাকি কবিতার সৃষ্টি। যে কবি দীর্ঘ শ্বাস থেকে কবিতার জন্ম দেন তিনি আর যা-ই হোন সাধারণ কোন কবি নন বরং নন্দিত কবি স্বত্বা। তিনি জগৎ কবিতার স্রষ্টা। এমনই এক জগৎ কবির নাম ড. খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ।
বিনয় আমাদের গর্বের ধন। সে ধন অর্জন করেছেন তিনি। বিনয় আর বদান্যতার বিমূর্ত প্রতীক— এমন সজ্জন আমরা খুবই কম দেখেছি। আমাদের একালে।
আমাদের বাংলাদেশে ইসলাম, দেশ ও মানবতার প্রশ্নে ডক্টর আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর অনেক কারণেই প্রাসঙ্গিক। কর্মবীর এমন মানুষ মরেও হয়তো বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে শত বছর। কাল কে জানান দিয়ে যাবেন কর্মদক্ষতায় ইসলাম কে এগিয়ে নেয়ার সফল প্রয়াস। কর্মক্লান্ত এ মানুষটির শূন্যতা অনুভব হবে আরো বহু বছর। স্কিনের পর্দায় তার লেকচারের সানিন্দ্য উচ্চারণ আর বয়িত কথামালার বিদ্যুতছটা আজও কানে বাজে। বাজে থেকে থেকে। মনে হয়, তিনি এখনো জীবন্ত। জীবন্ত এমন জীবনকে হাজার বার স্যালুট।
তিনি চলে যাওয়ার আজ চার বছর। এমন সজ্জন, অমায়িক, ভারসাম্যপূর্ণ, মিষ্টভাষী আলেম জীবনে কম দেখেছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।
এগারোতে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম তার। আওয়ার ইসলাম সম্পাদক আমাদের শ্রদ্ধাষ্পদেষু হুমায়ুন আইয়ুব ভাইয়ের মাধ্যমে, জামিআ শরইয়্যাহ মালিবাগের মুহাদ্দিস উস্তাদ মুহতারাম মুফতি হাফিজুদ্দীন স্যারের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। হুজুরের জামাআতুল আসআদ তখন ছিল রামপুরায় বউ বাজারের কাছে। দিনব্যাপী দাওয়াহ বিষয়ক কর্মশালায় স্যার ছিলেন প্রধান মেহমান। সে দিন তার ক্লাসের বিষয় ছিল দাওয়ার গুরুত্ব ও মাঠ পর্যায়ের কারগুজারি। আর তিনি যেহেতু মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে বাংলাদেশে এসে অধ্যাপনার পাশাপাশি দাওয়াহ কাজে যুক্ত হোন এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের নিয়ে কাজ করতেন তাই সে দিন আমাদের কাছে তার উম্মতের প্রতি দরদকাতরতার বিষয়টি ফুটে উঠে নতুনভাবে। আবিষ্কার করি একজন নতুন আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর কে।
কথা ছিল, হুমায়ুন ভাইয়ের 'রাহমানি পয়গামের' জন্য একটি সাক্ষাৎকার নিব। কথানুযায়ী তিনি সময় দিতে রাজি হোন। মাদরাসার এ প্রোগ্রামের পর ইসলামিক টিভিতে তার একটি প্রোগ্রাম ছিল তাই তিনি আমাকে হাতে থাকা বিশ্রামের এক ঘণ্টা সময়টুকু দিয়ে দিলেন।
সাদা একটি প্রাইভেট চলছে বাংলামটরের দিকে। শহুরে যানজট আর প্রিয় কারো সংস্পর্শ উপভোগ করছি একসাথে। তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ কোনো স্মৃতি নেই; নেই কোন পরিচয়। স্বল্প সময়ের সামান্য কথাবার্তায় তার মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। মানুষকে এতটা সহজে কেউ আপন করে নà¦