বেলায়েত হুসাইন: সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানি বলেছেন, রমজান আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার নিকট প্রেরিত একটি রহস্যময় উপহার- এই মাসের রোজা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি মানুষের দেহকেও সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে।
এই কথার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে ভালো-মন্দ দুটিই আছে। একটি আরেকটিকে পরাজিত করতে সর্বক্ষণ যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। তাই আল্লাহ তায়ালা রোজার মাধ্যমে মন্দের পরাজয়ের শক্তিশালী কৌশল হিসেবে মানবজাতিকে পবিত্র রমজান উপহার দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার রমজান বিষয়ক এক বিবৃতিতে মাওলানা ইউসুফ সাদিক একথা বলেন।
রোজার সঙ্গে আত্মশুদ্ধির সম্পর্ক বিষয়ে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনুল কারিমে রোজাকে সওম বলা হয়েছে, যার অর্থ আত্মশুদ্ধি লাভ করা। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে রোজা পালনের চেয়ে উত্তম কোন পন্থা নেই।
একইসঙ্গে রোজা যে দেহকেও পরিশুদ্ধ করে- এর ব্যাখ্যায় বুযুর্গ এই আলেমেদ্বীন বলেন, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজিস্ট প্রফেসর নুথার জিম মানুষের শরীরে রোজার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে বলেছেন, যারা খাদ্যনালীর সমস্যায় আছেন তাদের আমি বহু পথ্যের নির্দেশনা দিয়েছি, আশানুরূপ তেমন ফল পাইনি। তখন রোজাদারের মুখের লালা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করলাম। এতে এমন কিছু উপাদান পাওয়া গেল, যা পাকস্থলীকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে পেটের সমস্যা নিয়ে যত রোগী আমার কাছে এসেছে, তাদেরকে রোজা পালনের পরামর্শ দানে বহু রোগীর আরোগ্য হয়েছে।
এছাড়া, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডি এস কোড বলেছেন, রোজা পালন আত্মশুদ্ধি ও সংযমের এক শ্রেষ্ঠতম উপায়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ডা. আব্রাহাম জে হেনরিও প্রায় একই কথা বলেছেন, রোজা হল পরম হিতৈষী ওষুধ বিশেষ, যার কারণে বহুমূত্র, হৃদরোগ রক্তচাপজনিত সমস্যা কম হয়।
এজন্য মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানি উভয় জগতেই সুখী হতে দেশবাসীকে রোজা পালনে যত্নবান হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজের দরিদ্ররাও যেন রোজা রাখতে পারে এজন্য বিত্তবানরা যেন তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করে।
আর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মাওলানা হক্কানি। যাদের সুযোগ আছে তারা যেন একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এজন্য তাদের ইতিকাফ করার পরামর্শ দেন তিনি। একইসঙ্গে সাদকাতুল ফিতর আদায়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি তিনি বিশেষ আহ্বান জানান।
-এএ