আওয়ার ইসলাম: বিকল্প উপায়ে আদালত চালু করার পরামর্শ আইনজীবীদের।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের আদালতে মামলাজট আরো বাড়ছে। মামলাজট নিরসনে কোন উদ্যোগ এখন নেয়া হয়নি।
গত ২৬শে এপ্রিল ফুলকোর্ট সভা করে রাষ্ট্রপতির কাছে ই-জুডিশিয়ারি সিস্টেমে আদালত পরিচালনা করার আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। তবে সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কাছে। দীর্ঘদিন আদালতের দরজা বন্ধ না রেখে বিকল্প উপায়ে আদালত চালু করার পরামর্শ আইনজীবীদের।
প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সুপ্রিমকোর্ট আর সরকারের সাধারণ ছুটির আওতায় বন্ধ রয়েছে বিচারিক আদালত। এর মধ্যে সীমিত পরিসরে আদালত চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে তা থেকে সরে আসে সুপ্রিমকোর্ট।
সবেশেষ হিসেব অনুযায়ী, সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে ৫ লাখ।
হাইকোর্ট বিভাগে বছরে নতুন মামলা হয় ১ লাখের বেশি। নিষ্পত্তি হয় ৪৯ হাজার আর ঝুলে থাকে ৫১ হাজার মামলা। আপিল বিভাগে বছরে নতুন মামলা হয় ১২ হাজার। নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার আর ঝুলে থাকে ২৫ হাজার মামলা। একই সাথে বিচারকেরও সংকট রয়েছে।
এই অবস্থায় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভা করে ই-জুডিশিয়ারি সিস্টেম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মনে করেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সীমিত পরিসরে কোর্ট চালু করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, টেকনলোজি এখনও আমরা চালু করেনি। আগে মানুষের জীবন,তারপর হচ্ছে অর্থনীতি। কৃষি, অর্থনীতি হচ্ছে আগে, আদালতটা হচ্ছে সাময়িক ব্যাপার।
সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলাম ও জয়নুল আবেদিন মনে করেন, স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা জরুরী।
সুপ্রিমকোর্ট সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদিন বলেন, বিচার প্রার্থী মানুষদের বিচার পেতে দেরি হচ্ছে। তাদের কথাও চিন্তা করা উচিত। দীর্ঘদিন যেহেতু বিচার ব্যবস্থা বন্ধ,আদালত খোলার পর কিন্তু মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে স্বল্প পরিসরে আদালত খুলে কোন লাভ হবে না।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, খুব যে বড় একটা ডিমান্ড আছে আমার তা মনে হয় না, কিছু কিছু আর্জেন্ট হতে পারে। যারা মক্কেল তারাও বিপদে আছে, আমরাও আছি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি্র সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কোর্ট করা প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। এখানে আমাদের কোন মতামতের জায়গা নেই।বিচার প্রক্রিয়া এবং বিচার প্রশাসন কীভাবে চলবে সেটা তারাই নির্ধারণ করবেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি্র সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এখন অনেক কিছুই কিন্তু স্বাভাবিক হচ্ছে। আইনজীবীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেক্ষেত্রে আদালত খোলা যেতে পারে।
সীমিত পরিসরে ও অনলাইনে আদালত চালু করার বিষয়ে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
-এটি