মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ।।
করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় সমগ্র বিশ্ব আজ স্তব্ধ-বিপর্যস্ত। করোনা কবলিত এলাকার মানুষগুলো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে অবচেতন মনে। কেউ জানেনা এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে। করোনা ভাইরাস কি? কেউ কেউ মনে করেন এটি একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আসলে এটি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। এটি আমাদেরই কর্মফল।
পবিত্র কুরআনের সূরা রুম এর ৪১ নং আয়াতে মহান রব্বুল আলামীন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, (তরজমা) "স্তলে-জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের কিছু কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।"
সূরা আশ-শুরা এর ৩০ নং আয়াতে মহান রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) "তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।"
এসকল আযাব ও বিপর্যয় থেকে মানুষ কিভাবে মুক্তি পাবে সে পথও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বাতলে দিয়েছেন। কালামে পাকের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের কে ইস্তিগফার ও তওবার আদেশ করেছেন।
সূরা নূহ এর ১০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,(তরজমা) "তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল।দুনিয়াবাসীর প্রতি আল্লাহর রহমত আসে ইবাদত-বন্দেগী, ইস্তেগফার ও তওবার মাধ্যমে।
সে ইবাদতের অন্যতম স্থান হলো মসজিদ-মাদরাসা অথচ আমরা সেগুলো বন্ধ করে রেখেছি আর হাট-বাজার, শপিংমল খুলে দিচ্ছি। সুতরাং আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি এদেশের মসজিদ-মাদরাসা খুলে দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি আল্লাহর রহমতের দরজা উম্মুক্ত করে দিন। যাতে করে এদেশের ধর্ম প্রাণ মুসলমানেরা আল্লাহর দরবারে আন্তরিক ভাবে তওবা ও ইস্তেগফার করে ক্ষমা লাভ করতে পারে। আর এটিই হচ্ছে করোনা ভাইরাসের বিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র পথ। মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে ইস্তেগফার ও তওবা করার তাওফিক দান করেন।
লেখক: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কওমী কাউন্সিল