বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


‘সরকারের নির্দেশ মেনে ঘরেই নামাজ আদায় করুন, তবে মসজিদ আবাদ রাখুন’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: রাজধানী ঢাকার পরিচিত দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকবর কমপ্লেক্সের পরিচালক ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দীন, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন, অভিজ্ঞ ফকীহ, বিশিষ্ট ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন করোনা ভাইরাসের এ কঠিন মুহূর্তে মসজিদে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞ আলেমদের ডাকা হয়েছিলো। সেখানে অনেক বড় বড় আলেম সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন, জামিয়া শায়েখ জাকারিয়া ইসলামি রিসার্চ সেন্টারের মহা পরিচালক ‍মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার শিক্ষা সচিব ও উলুমুল হাদীস বিভাগের প্রধান দেশ বরেণ্য আলেম মুফতি আব্দুল মালেকেসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সে বৈঠক থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথাবার্তা আসছিলো স্যোশাল মিডিয়ায়। সেজন্য এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছি।

সেখানে একটি কথা এমন ছিলো, মসজিদে জামাত চালু থাকবে তবে সীসিত আকারে। সীমিতের ব্যাখ্যা কী সেটাও তুলে ধরা হয়েছিলো। তবে একটু স্পষ্টতা বাকী ছিলো। সে কারণেই আজকে আলোচনায় আসা।

এক নম্বর কথা হলো আমি যে আয়াতটি তেলাওয়াত করেছি, وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ

এ আয়াতের আলোকে মসজিদ আবাদ রাখা ফরজে কেফায়া। মসজিদ কিছুতেই বন্ধ করা যাবে না। তবে ফরজে কেফায়া আদায় করার লক্ষ্যে মসজিদে জামাত চালু রাখতে হবে। যেকজন মুসল্লি হলে পরিপূর্ণ জামাত হয়, অর্থাৎ ইমাম ছাড়া দু’জন থাকলে জামাত হয়। জুমার নামাজে ইমাম ছাড়া তিনজন উপস্থিত থাকলে পরিপূর্ণ জামাত হয়।

অতএব, ইমাম মুয়াজ্জিন মসজিদের খাদেম মিলে জামাত আদায় চালু রাখবে। সাধারণ নামাজে তিনজন আর জুমাতে চারজন মুসল্লি মিলে মসজিদ কে আবাদ রাখলেই ফরজে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে। আর অন্যান্যদের জন্য জামাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। দলিল হিসেবে বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেহেশ্তি জিওর এর মধ্যে আছে, বাইরে গেলে যদি ঠাণ্ডা লেগে মৃত্যুর আশংকা থাকে তাহলে ঘরে নামাজ আদায় করবে। বাইরে গিয়ে মসজিদ পর্যন্ত যেতে কোনো রোগ বা মসিবত আসতে পারে, বা রোগ বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকলে ঘরে নামাজ আদায় করার কথা বলা হয়েছে। জামাত ছেড়ে দেয়ার অবকাশ আছে।

আর বর্তমান পরিস্থিতিতে জমায়েত হতে গেলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। এ পরিস্থিতিতে জামাত ছেড়ে দেয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ নয়। তাই মসজিদে জামাত করতে যতজন মুসল্লির দরকার হয়, তারা জামাত আদায় করবে। আর বাকিরা নিজ নিজ ঘরে যথাসাধ্য জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করবে। যদি এ ব্যাপারে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয় জামাত সীমিত করার। তাহলে সেটা শরিয়ত পরিপন্থী হবে না।

পাশাপাশি আরেকটা নিবেদন, এ ধরণের মসিবত, এ ধরণের আজাব আমাদের গুনাহের কারণেই আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আসে। অতএব যার পক্ষ থেকে এ মসিবত মহামারী এসেছে তার কাছে ধর্ণা দেয়াই হবে এর থেকে উত্তরণের সঠিক পথ। তাই আমরা এখনই সব ধরণের অবৈধ অশ্লীল বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা, গান বাধ্য এক কথায় সব ধরণের গুনাহ পরিত্যাগ করে খালেস দিলে আল্লাহর দরবারে তাওবা করে কান্নাকাটি করি।

এতে আশা করি আল্লাহ তায়ালা আমাদের থেকে এ মসিবত উঠিয়ে নিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। সামনে আগামী বৃহস্পতিবার শবে বরাত। গুরুত্বপূর্ণ এ রাতে মসজিদে না গিয়ে নিজ নিজ ঘরে খুব কান্নাকাটি করে তাওবা ইস্তেগফার করি। ইবাদতে কাটাই। এ মহামারী মসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে জোড় আবেদন করি। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করি আল্লাহ তায়ালাই আমাদেরকে এ মসবিত থেকে রক্ষা করবেন। ইনশাআল্লাহ।

-এটি


সম্পর্কিত খবর