রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৭ পৌষ ১৪৩২ ।। ২২ রজব ১৪৪৭


কাজে ফিরছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাসে থেকে কাজে যোগ দিচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা।টানা পাঁচ দিন আমরণ অনশন কর্মসূচির পর আজ শনিবার ভোর থেকেই কাজে যোগ দিতে শুরু করেন তারা। ফলে মিলে উৎপাদন শুরু হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহা. মুরাদ হোসেন জানান, ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি কমিশনের স্লিপ দেয়া হবে মর্মে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। আগামী ১৬ জানুয়ারি আমাদের স্লিপ দেয়া হবে। শনিবার ভোর ৬টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাটকল খুলনায়। খুলনার সাতটি পাটকলে স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। যারা সবাই কাজে যোগদান করেছেন।

মিলগুলো হচ্ছে- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। ফলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে শিল্পাঞ্চলে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা যায়, আমরণ অনশনের সময় খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯ পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কারপেটিং জুট মিল বাদে বাকি সাতটি পাটকলের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। সেখানে চালু থাকা ওই দু’টি পাটকলে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন। পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে শ্রমিকদের ৫ দিনের অনশনে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। আর ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন। অনশনের চতুর্থ দিন ১৩ ডিসেম্বর মিল এলাকায় ছিল উত্তাপ আর তীব্র উত্তজনা।

অনশনে অসুস্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্লটিনাম জুট মিল গেটে বিআইডিসি সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় তাকে দাফন করা হয়। আমরণ অনশনের চার দিনে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ ডিসেম্বর রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর নেতারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গভীর রাতে অনশন তিন দিনের জন্য স্থগিত করেন।

সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তৃতীয় দফার এই বৈঠক থেকে বের হয়ে শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও এক মাস সময় চেয়েছেন। তবে এক মাস পর আসলেই মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কিনা তা অনিশ্চিত। শুধু শুধু সময়ক্ষেপণ করার জন্য এক মাসের কথা বলা হচ্ছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ