আওয়ার ইসলাম: বিতর্কের মুখে রাজাকারের তালিকা স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতিপূর্বে প্রকাশিত তালিকাটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম আরিফ-উর-রহমান গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘তালিকাটি আমরা স্থগিত করেছি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম এসেছে, এটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এটা যাচাই-বাছাই করে দেখে সুন্দরভাবে সাজিয়ে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি পাঠিয়ে অনুমোদন নিয়ে প্রকাশ করলে ভালো হতো। সেটা আমরা পারিনি।’
সচিব আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে এটি প্রকাশ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে যা যা করার আমরা করব। তবে যাচাই-বাছাইয়ে কত সময় লাগবে সেটা আমরা এখনই বলতে পারছি না। তবে পার্টিকুলার কোনো সময়ের মধ্যে দ্রুত এটা করতে হবে, আমি সেটা মনে করি না। বিশেষ কোনো তারিখে প্রকাশ করার চেয়ে যাচাই-বাছাইটা সঠিকভাবে হওয়াই বড় বিষয়।’
বিজয় দিবসের আগের দিন রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে ঘোষিত তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর ও ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপুসহ রাজশাহীর আরও দুই ব্যক্তির নাম রয়েছে ওই তালিকায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ছিলেন বলে প্রমাণ রয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশে সমালোচনা শুরু হয়। সর্বশেষ আজ বুধবার রাজাকারদের প্রকাশিত তালিকা স্থগিত করা হলো।
আরএম/