আওয়ার ইসলাম: মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদর, আল শামস বা শান্তি কমিটির কোনো দলিলপত্র নেই নাটোরে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি অফিসে অনুসন্ধান করে কোনো দলিলপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নাটোরের ৪৮ জনের নাম প্রকাশ হলেও তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। এই ৪৮ জনের বেশির ভাগই সিংড়া উপজেলার। তবে অনেকেই শান্তি কমিটির সদস্য হলেও স্বীকৃত কেউ রাজাকার ছিল না বলে জানিয়েছেন সেখান মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দুই নম্বর হেড কোয়াটার ছিল নাটোর। এখান থেকেই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মুক্তিকামী মানুষদের ধরে নিয়ে গণ হত্যা চালাতো পাক বাহিনীরা। সে সময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অনেকে বেঁচে থাকলে তালিকা তাদের নাম আসেনি।
১০ হাজার ৭৮৯ জনের তালিকার মধ্যে নাটোর জেলার ৪৮ জন রাজাকারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় নাটোর সদর ও সিংড়া উপজেলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
রাজাকারের তালিকায় যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার আব্দুল কাসেম খান চৌধুরীর ছেলে আব্দুস সাত্তার খান, জংলি এলাকার সোলাইমান মুন্স, দিঘাপতিয়া এলাকার পোস্ট মাস্টার হাফিজুর রহমান। বক্ষ্রপুরের মোজাহার আলী, আব্দুস সবুর মোল্লা, আবেদ আলী মোল্লা, সামছুল মোল্লা এবং হামিদ আলী।
এ ছাড়া সিংড়া উপজেলার চৌগ্রামের রহমতউল্লার ছেলে মজিবর রহমান, চৌগ্রামের তাসির উদ্দিনের ছেলে মোজাফর হোসেন, পরান উদ্দিনের ছেলে মফিজ উদ্দিন, বড়সাঐল গ্রামের নজরুল ইসলাম, দমদমা এলাকার খায়ের উদ্দিনের ছেলে এরশাদ আলী।
দমদমা এলাকার হাজী রমজান আলীর ছেলে রওশন আলী সরদার, বোয়ালিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন। কুড়িপাকুরিয়া এলাকার নাসের আলী, একই এলাকার বাসির উদ্দিনের ছেলে মোয়েজ উদ্দিন, রমজান আলীর ছেলে ওসমান আলী ফকির।
বড়সাঐলের কাফি উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেক, হাফিজ পেশোয়ারীর ছেলে শের মোহাম্মাদ, কদমতুলি এলাকার ইমান শাহেরের ছেলে মোহসিন আলী শাহ, নূরপুরের ইয়াকুব আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন সরকার, নাজিরপুরের ডা. আব্দুল মজিদ, হাট কদমতুলি এলাকার হাজী সাবিল উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল সরদার, একই এলাকার দবির সরকারের ছেলে আব্দুল কাদের সরকার, মতিউর রহমানের ছেলে মহত আলী মাস্টার।
বগু ফকিরের ছেলে মেছের ফকির, পুন্ডুরি গ্রামের তাইমুল্লাহ হাজীর ছেলে নাসির উদ্দিন, কানপুর গ্রামের নাবির উদ্দিন, বেজনপাড়া এলাকার চুস লালের ছেলে হাজের আলী। কলমের সাবেক চেয়ারম্যান আইফুব আলী প্রামানিক, নাজরপুর গ্রামের পোসরান সরকারের ছেলে কাসেম আলী, পুন্ডুরি গ্রামের ইয়াসিন প্রামানিকের ছেলে সোলেমান আলী। হুলহুলিয়া গ্রামের সাইফুদ্দিনের ছেলে ডা. সাইফুল ইসলাম
হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের হাজী হারান আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন মিয়া, দমদমা এলাকার খয়ের সরদারের ছেলে নিজাম সরদার, একই এলাকার গোপালের ছেলে চন্দন আলী, রহমান আলী মোল্লার ছেলে জাবের আলী মোল্লা, রহিমউদ্দিন মুন্সির ছেলে রেজা উদ্দিন মুন্সি, হাট সিংড়ার জলিল মিয়ার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক।
একই এলাকার ওমর আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, রমজান খানের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক খান, ছোট চৌগ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে মাহমুদুল আলম, বানসার গ্রামের মধু খানের ছেলে আয়েজ উদ্দিন খান, একই এলাকার দয়েজ প্রামাণিকের ছেলে আজিজ প্রামাণিক। সাবেক চেয়ারম্যান মওলা বক্সের ছেলে আজিজুল হক এবং সিংড়া থানার অর্ন্তগত ভুল বাড়িয়া গ্রামের আজিম উদ্দিন।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ দুদু বলেন, ১৫ ডিসেম্বর সরকারিভাবে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই তালিকা ভুলে ভরা।
প্রকৃত যারা রাজাকার ছিল তাদের নাম তালিকায় আসেনি। তাছাড়া কিছু কিছু স্বীকৃত রাজাকার এখনও বেঁচে রয়েছে। তারা বুক ফুলিয়ে চলছে। তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করলে ভালো হতো।
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্টু জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী ১৯৭৫ সালের ৫ মার্চ কলাবরেটর তালিকায় নাটোরের মহমুকার ৫৯ জনের নামের তালিকা থাকলেও রাজাকারের তালিকায় তাদের নাম আসেনি।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন মহাকুমার সংস্থাপন, রেকর্ড রুম বা ট্রেজারি অফিসে স্বাধীনতা বিরোধিদের তালিকা থাকার কথা। কারণ যুদ্ধের ৯ মাস রাজাকাররা স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।
কিন্তু ৭৫ পরবর্তীতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আতাত করে সরিয়ে ফেলতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
নাটোর ট্রেজারার সহকারী কমিশনার জাকির মুন্সি বলেন, এই ধরনের তালিকা আদও আছে কি-না, বা ছিল কি-না, তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, তৎকালীন সময়ে মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয় (এসডিও) অফিস ছিল নাটোরে। কিন্তু ট্রেজারিতে সে সময়ের কোনো দলিলপত্র বা তালিকা নেই।
-এটি