হাসান আল মাহমুদ।।
সমাগত ২০১৯। জীবনের ক্যালেন্ডার থেকে বিদায় নিয়েছে আরেকটি বছর। দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর বিদায় নিয়ে হারিয়ে যায় কালান্তরে। কিন্তু মানুষ এই হারিয়ে যাওয়া সময় নিয়ে ভাবতে চায় না। অথচ যথেষ্ট ভাবা উচিত মানুষের।
মানুষ ন্যাচারাল্লি আত্মভোলা। হারানো দিনগুলো তাকে স্পর্শ করে না। নতুন করে ভাবিয়ে তুলে না। নতুন উদ্যমে পথ চলার অঙ্গীকারে দীপ্ত করে না। অপরদিকে সময় থেকে উপদেশ নিয়ে ব্যতিক্রম হয় যে মানুষের জীবন, তার জীবনই ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে ইরশাদ করেছেন, 'তিনি সেই সত্তা যিনি দিন ও রাতকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন। (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য যে উপদেশ গ্রহণ করতে ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়।'-সূরা ফুরকান : ৬২।
বছর যাবে। বছর আসবে। এটাই আল্লাহ তায়ালার বিধি। এই আসা-যাওয়ার মাঝে রয়েছে প্রকৃত মুমিনের চিন্তার খোরাক। যেভাবে সময় হারিয়ে যায়, সেভাবে একদিন তাকেওতো এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে হবে। পাড়ি দিতে সেই আখেরাতকে, যা অনন্ত, অনাদি। এই আখেরাতের চলার জন্য সঞ্চয় কতটুকু করতে পেরেছে মানুষ? রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'পাঁচটি বিষয়কে অন্য পাঁচটি বিষয় গ্রাস করার পূর্বে তার সদ্ব্যবহার করো। তোমার যৌবনকালকে বার্ধক্য আসার পূর্বে, তোমার সুস্বাস্থ্যকে অসুস্থতা আসার পূর্বে, সর্বোপরি তোমার জীবনকে মৃত্যু আসার পূর্বে।'
মানুষের জীবন সম্পর্কে একবার রাসূলুল্লাহ (সা:) একটি ভাষনে বললেন, 'হে জনতা! তোমাদের জীবন তরীতে রয়েছে কিছু মাইলফলক, সে মাইলফলকগুলো তোমাদের অতিক্রম করতে হবে। এভাবে তোমাদের রয়েছে একটি শেষ মঞ্জিল। সেখানেই ঘটে যাবে সবকিছুর ইতি। মুমিন মূলত দুটি আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করে। একটি আশঙ্কা হচ্ছে, গত জীবন। সে জানে না, সেখানে আল্লাহ তার জন্য কী লিখে রেখেছেন। তাই প্রতিটি মানুষ নিজের জীবন থেকেই নিজের জন্য পাথেয় জোগাড় করুক। দুনিয়া থেকেই আখেরাতের সম্বল হাসিল করুক। বুড়ো হওয়ার আগে যৌবন ও সুস্বাস্থ্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুক। সর্বোপরি মৃত্যু আসার আগে জীবনের সদ্ব্যবহার করুক।'
তাই, নতুন বছর হোক আমাদের জীবনকে নতুন করে সাজাবার অঙ্গীকারে দীপ্ত। হিংসা, বিদ্বেষ, রেষারেষি দূর করে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পরকালের বিশ্বাস, আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা, ঐক্য, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণায় উজ্জীবিত।
এইচএএম