শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


ঘুমিয়ে আছেন আমারও অন্তরে, হে আহলুল্লাহ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যিয়াদ বিন সাঈদ >

উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে অগ্রযাত্রায় যখন বাঙলাদেশ ঠিক তখনি, সে মুহূর্তেই, ঢাকার শহরের চিরচেনা যানজটে বসে ধুকপুক করছে পিতা-পুত্রের দু দুটি ক্বলব। হাত কাঁপছে পুত্রের। তিরতির করছে ঠোঁট। কলজেটা হাতে নিয়ে ভাবছে সে পুত্র— এ জ্যাম এড়িয়ে কখনো কি তারা পৌঁছতে পারবে হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত বিছানায়?

পেছনে আধোঘুমে বসে থাকা পিতা, নীরব যন্ত্রণা সইতে সইতে একটা সময় অনিয়ন্ত্রিত যখন তিনি, তখনও তারা জ্যামে। শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে। অন্ধকার হয়ে আসছে তার সামনে ব্যস্ত এ পৃথিবীর মহাকাশ।

বাস্তবতার তিক্তসত্যতা যখন কালো রঙের সে গাড়িটির ভেতর একটু একটু করে চেপে আসছে, তখনও জানে না পিতা-পুত্র, এই বুঝি তাদের স্কন্ধ চেপে ধরছে এক মহা সংবাদ।

ছোটবেলার চিরচেনা শ্বাসকষ্ট তখন পূর্ণ মাত্রায়। পিতার বুক সজোরে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠছে বারেবার। এই একটু সময়ের জন্যে ডান দিকে ফিরলেন তিনি। কিন্তু তখনই শোনা গেলো ইল্লাল্লাহর ধ্বনি।

পিতা মুখ ফিরিয়ে শেষবারের মতো হয়তো দেখতে পারলেন না পুত্রের নির্বাক চাহনিটুকু। তিনি নিশ্চিত চলেই গেলেন। চলে গেলেন অন্তর্যামীর ডাক যেখান থেকে আসছে সেখানে। একান্ত সন্তর্পণে।

হ্যাঁ, বলছিলাম ওয়াসেল চাচ্চুর কথাই। যেন অবিশ্বাসের একদম চূড়ায় দাঁড়িয়ে আমাকে বিশ্বাস করে নিতে হচ্ছে তার চলে যাওয়ার কথা। জোর করে মেনে নিতে হচ্ছে, তিনি আর আসবেন না।

কখনো অল্প আওয়াজে হাসি হাসি মুখে বলবেন না, যিয়াদ, বাসায় আসোনা কেন? কিন্তু কেন? কেন এমম নির্মমতা? উঁহু। এ প্রশ্নের অধিকার আমার নেই। আমাদের নেই। ওয়াল্লাহু য়্যুহয়ি ওয়া য়্যুমিতের ওপর যে বিশ্বাস করেছি, সেখানেই থাকতে হবে আমাদের। জান্নাতী ফুলকদম্বের পুষ্পবনে দেখা হবার প্রত্যাশা বুকে রেখে সয়ে যেতে হবে নীরবে। কিন্তু তবুও..

যখন দেখি ছোট্ট তাহিয়্যা, তুবা, নাবিল আর লাবীব ছলছল চোখে একমনে তাকিয়ে ভাবছে, এখন কাকে তারা আব্বু বলে ডাকবে; কার জন্যে প্রতিরাতে অপেক্ষা করবে তারা, তখনই কান্নারা দলা পাকিয়ে উঠে আসতে থাকে ক্রমশ।

অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ি। রোজ রাতে এসব ভাবতে ভাবতে পাশে শুয়ে থাকা লাবীবের মাথায় বিলি কেটে দিই। মনে হতে থাকে, এ মাথায় হাত রেখে জীবনের অপ্রতিরোধ্য সময়টুকু কে পার করে দিবে, কে?

সেদিন সকালেও আল কাউসারের মাকতাবায় ওয়াসেল চাচ্চুকে দেখে একটু চমকে উঠলাম। চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছেন। এতো ভোরে চলে এসেছেন তিনি! ছেলের সঙ্গে তার হৃদ্যতায় ভরে ওঠা মন কি তবে বেসামাল? নিশ্চিত। তিনি তার আহলকে ভালোবাসেন। আর তিনি তো আহলুল্লাহ।

সবকিছুর পর যেন আমি আর ভাবতে পারিনা, তিনি আজ নেই। এতো সুস্থ সবল মানুষটা কীভাবে চলে যায়! এতো উদ্যমতা, এতো হাস্যোজ্জ্বল মুখটুকু à¦