মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭


‘কুরআনের শিক্ষা ছাড়া মানুষ প্রকৃত মানুষ হতে পারে না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইমদাদ ফয়েজী: ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা পাঠানটুলা, সিলেট এর শাখা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা নাজিরেরগাঁও শাখায় অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অধ্যক্ষ মাওলানা মো: লুৎফুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার এর সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান। ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইমরান আনসারী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সুপার মুহাম্মদ ইমদাদুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

নূরানি পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ, আব্দুল মছব্বির, মন্তাজ আলী, মাহমুদুল হাসান, কাওছার হাবিব, জগলু মিয়া প্রমুখ।

ভারপ্রাপ্ত সুপার মুহাম্মদ ইমদাদুল হক উপস্থিত অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী কেন্দ্রীয় ও বার্ষিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা যাতে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে, সেদিকে অভিভাকদের সচেতন হওয়ার ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

তিনি অভিভাবকদের কাছে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য আরোও বেশি করে ছাত্রছাত্রী কামনা করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষা দানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামাত দিবসে অনেক সন্তানেরা তাদের মা-বাবার ওপর অভিযোগ করবে, মাতাপিতাকে অপদস্থ করবে, পদদলিত করবে। যারা সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিবেন তারা এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি সন্তানদের লেখাপড়া ও নৈতিকতার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানের গড়ে তুলতে হয় পিতামাতা ও অভিভাবককেই। তারা সামান্য সময় প্রতিষ্ঠানে থাকে আর অবশিষ্ট পুরো সময় থাকে বাসা-বাড়িতে, আপনাদের পাশে।

সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকবেন। একজন প্রকৃত মুমিন হিসেবে গড়ে তুলবেন, নিয়মিত তাদের লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক, খেলাধুলা, আচার-আচরণ ও চলাফেরার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন।

মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ বলেন, দেশের অন্যতম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ শাখায় এসে আমি অভিভূত। এধরনের অভিভাবক সমাবেশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার এবং প্রতিষ্টান ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নে অনেক সহায়ক।

তিনি ইমাম শাফিয়ি রহ. ও মনোবিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, টিনএজে ছেলেমেয়েরা অনেকটা আবেগপ্রবণ থাকে, মন এদিকওদিক ছোটাছুটি করে, এসময় অভিভাবকদের খুবই সচেতন থাকতে হয়। তাই আমি বলবো, আপনারা নিজ নিজ সন্তানের প্রতি সজাগ থাকবেন। বিশেষ করে তাদেরকে স্নার্টফোন থেকে দূরে রাখবেন।

তিনি আরোও বলেন, আমাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে, আমরা মুসলমান। আমরা নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে নিজেদেরকে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা মো: লুৎফুর রহমান উপস্থিত অভিভাবকদের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আপনার ব্যবসার হিসাব এখন হাতের মুঠোয়- ক্লিক

তিনি সূরা রাহমানের প্রথম তিন আয়াতের তাফসীরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কুরআনের শিক্ষা ছাড়া মানুষ প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। সন্তানকে কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দেয়ার বিকল্প নেই। আমরা এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে করে আপনাদের ছেলেমেয়েরা দ্বীনী শিক্ষা অর্জন করতে পারে।

এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী দিয়ে আপনারাই আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন থেকে ছাত্রছাত্রী দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের আর এদেরকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের।

তিনি বলেন, আমি আশা করি মাদরাসার সার্বিক কল্যাণে আপনারা লিফলেট, বিজ্ঞাপন ও মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি আরোও বলেন, আপনাদের আন্তরিক ভূমিকা, সার্বিক সহযোগিতা ও দুয়ায় এ প্রতিষ্ঠান একদিন শুধু সিলেট বিভাগে নয়, বরং পুরো দেশের মাঝে স্ব-মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশা-আল্লাহ।

-আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ