বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘যুগান্তকারী কাজ করলো হাটহাজারী মাদরাসা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইশতিয়াক সিদ্দিকী
হাটহাজারী প্রতিনিধি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মোবাইল বিষয়ক বক্তব্য আমলে নিয়ে ছাত্রদের দুই বস্তা মোবাইল পুড়িয়ে ফেলেছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী।

গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রদের উপস্থিতে মাদরাসার সম্মুখ মাঠে প্রায় দু'বস্তা মোবাইল আগুনে জ্বালিয়ে দেয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ উদ্যোগকে কেউ স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ছাত্রদের সময় ও মনোযোগ নষ্ট হওয়া থেকে বিরত রাখতে এ এক যুগান্তকারী কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কেউ কেউ সমালোচনাও করছেন।

তাদের বক্তব্য, এসব না পুড়িয়ে অন্যভাবেও শাস্তি দেয়া যেত। এতে সম্পদ রক্ষা হতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ভাষ্য- বারবার সতর্ক করার পরও যখন কাজ হচ্ছিল তখন কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া উপায় ছিল না।

কিছু আলোচনা-পর্যালোচনা করা যাক

মোবাইল প্রত্যেক ছাত্রের জন্যে ক্ষতিকারক - একথা প্রত্যেক অভিভাবক, শিক্ষক ও জ্ঞানীরা বলে থাকেন। আর মোবাইল যদি এন্ড্রয়েড হয় তাহলে তো আরো ভয়ঙ্কর মনে করা হয়। কারণ তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ছাত্রদের জ্ঞান থেকে দূরে রাখার অন্যতম ক্ষতিকারক বস্তু মোবাইল।

এরই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখি, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি করা হয়।

মোবাইল ব্যবহারে দারুল উলুম দেওবন্দের নিয়ম কী?

কওমী মাদরাসাগুরো যার অনুসরণ করে চলে সেটি হলো ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ। এখানে ছাত্রদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেওবন্দ পড়ুয়া বাঙালি ছাত্র তাওহীদ আদনান জানিয়েছে, দারুল উলূম দেওবন্দের নিয়ম হলো, কেউ কোনো মাল্টিমিডিয়া (ক্যামেরা, মিউজিক, রেডিও সম্বলিত) মোবাইল সেট ব্যবহার করতে পারবে না।

হ্যা! ক্লাস টাইম ব্যতীত নির্ধারিত সময় নরমাল মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে। কারো কাছে কোনো এন্ড্রয়েড ফোন ধরা খেলে, প্রথমবার মোবাইল বাজেয়াপ্ত এবং সাথেসাথে তার আবাসিক সব সুবিধা (ফ্রি খানা, থাকা, ভাতা ইত্যাদি) বন্ধ করে দেয়া হয় এবং দ্বিতীয়বার ধরা খেলে বহিষ্কার করার নিয়ম রয়েছে।

বাংলাদেশের অন্যান্য কওমী মাদরাসার ভূমিকা

বাংলাদেশেও মুফতি আবদুর রহমান রহ. প্রতিষ্ঠিত বসুন্ধরা মাদরাসা ও তার অাওতাধীন মাদরাসাগুলোতে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছাত্রদের কাছে শুধু মোবাইল নয়, যেকোন ইলেক্ট্রিক ডিভাইস পেলে