সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
আমরা সবাই সুখ পেতে চাই, সুখী হতে চাই। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সুখ বলতে কী বোঝায়? কীভাবে সুখী হওয়া যায়? তবে সংক্ষেপে বলা যায়, আমরা যা চাই, তা সুখের জন্য চাই। আর চাওয়া পূর্ণ না হলেই যেন সুখের হানি ঘটে।
এক জীবনে আমাদের কত যে চাওয়া, চাওয়ার যেন শেষ নেই। এক চাওয়া পূর্ণ হওয়ার পরই ছুটে চলি নতুন কোনো চাওয়া পূর্ণ করতে। পৃথিবীতে কেউ নেই যে- তিনি সুখ পেতে চান না। কিন্তু এই যে এত কাঙ্খিত সুখ-এই সুখের উপাদানগুলো কী?
টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, নাম-যশ-খ্যাতি-প্রতিপত্তি এমনসব হাজারো বিষয় যে আমাদের চাহিদার তালিকায় থাকে। এসব পেলেই যে সুখ পাওয়া হলো তা কিন্তু নয়!
একুশে বইমেলায় প্রকাশি সব বই দেখতে ও কিনতে ক্লিক করু
তবে সুখকে যদি আমরা জাগতিক, বৈষয়িক চাহিদার মাপকাঠিতে ব্যাখ্যা করতে চাই তাহলে সুখ বলতে আমাদের এসব ইচ্ছাপূরণকেই বুঝে থাকি। ভিন্ন অর্থে সুখে থাকা মানে ভালো থাকা।
যে ভালো থাকা শুধুই জাগতিক, বৈষয়িক চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে পাওয়া হয় না। তাই বলা যায়, জাগতিক বিষয়-আশয় সুখী হওয়ার অন্যতম উপাদান হলেও একমাত্র উপাদান নয়। যারা একমাত্র উপাদান ভাবে তাদের জীবনে সুখ আলেয়ার মতোই অলীক।
আমাদের ইচ্ছের পরিতৃপ্তি যে সর্বদাই সুখদায়ক- একথা মানতেই হবে। কিন্তু ইচ্ছের ক্ষেত্রে অবশ্যই আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকা চাই। আমি যা চাচ্ছি, যখন চাচ্ছি, যেমনভাবে চাচ্ছি তেমনভাবেই পাচ্ছি। অতএব আমি সুখী মানুষ। এমনটি কখন সম্ভব?
যখন আমার ইচ্ছেগুলো আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়ন্ত্রণহারা ইচ্ছে নিয়ে কখনও সুখী হওয়া যায় না। জীবন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সম্পর্ক, স্বপ্ন-সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণ শান্তি আনে আর শান্তিতে মিলে সুখ। এক্ষেত্রে বলা যায়, সুখদায়ক বাহ্যিক উপাদানের পাশাপাশি মানসিক দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তুষ্টি সম্পর্কে আমাদের ধারণা যতটা স্বচ্ছ হবে, সুখের ধারণাও আমাদের জীবনে ততোই অর্থবহ হবে। আবার আমরা আমাদের আবেগ ও অনুভূতিকে কীভাবে পরিচালনা করছি সুখী হওয়ার ক্ষেত্রে এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
কেননা আবেগ ও অনুভূতির সাথে আমাদের সুখী হওয়া বা দুঃখ পাওয়ার একটা যোগসূত্র রয়েছে। এক্ষেত্রে বলতে হয়, আমাদের রাগ, দুঃখ, অভিমান সবই হয় একটা প্রত্যাশার জায়গা থেকে। প্রত্যাশা পূরণে বাধা এলেই আমাদের দুঃখ হয়।
যেমন সারাবছর ভালো কাজ করেও কাজের স্বীকৃতি না পেলে মন খারাপ হয়। এমতাবস্থায় অবশ্যই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আব