বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ।। ১১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৬ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. ঢাকায় ভর্তি ৭ ও ৮ শাওয়াল ‘নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’য় ভর্তি শুরু আগামীকাল ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরী’ আল-হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ‘ঢালকানগর মাদরাসা’র ভর্তি আগামীকাল ঢালকানগর মাদরাসার শাখা ‘জামিয়া আশরাফুল মাদারিস কমপ্লেক্স’-এ ভর্তি আগামীকাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ বারিধারায় ভর্তি চলছে মাইজগাঁও দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি শনিবার, বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি, ৪০ জনের মতো প্রাণহানীর আশঙ্কা ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও জনগণ বঞ্চিত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’ নতুন বছরে ভর্তির দুর্ভোগ, একটি মর্মস্পর্শী চিত্র

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় মমতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নিরাপত্তা এজেন্সির নালিশ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে উপক্ষা করেছে-এই অভিযোগ তুলে এবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি।

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ঢোকার সুযোগ করে দিয়ে রাজ্য সরকার শুধুমাত্র কেন্দ্রের যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি উপেক্ষাই করছে না, এ রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ও দিচ্ছে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে 'দেশ বাঁচাও সামাজিক কমিটি' নামে একটি এনজিও-এর পক্ষে মিয়ানমার থেকে ভারতে চলে আসা আটটি পরিবারের ২৯ জন সদস্যকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা সামনে আসার পরই বিএসএফ’র পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে এই অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির দাবি ওই রাজ্যের শাসক দলের সমর্থনেই কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের সেখানে আশ্রয় শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের কয়েকজনের কাছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু হাই কমিশন (ইউএনএইচআরসি) দ্বারা নিবন্ধিত কার্ড থাকলেও বাকীদের কাছে তা নেই।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের মদদেই ওই রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক সহায়তা, খাদ্য, বাসস্থান-এর জন্য অনুদানও তোলা হচ্ছে।

এব্যপারে রাজ্যটির এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান ‘রাজ্য সরকার ইউএনএইচআরসি নিবন্ধিত কার্ড স্বীকার করছে। তাছাড়া মমতা ব্যানার্জিও একাধিক অনুষ্ঠান থেকে বার্তা দিয়ে বলেছেন যে জাতিসংঘের নিয়ম মেনেই তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে’।

কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিয়ে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের যে নীতি নিয়েছে মমতা সরকার তা লঙ্ঘন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘নিরাপত্তা এজেন্সির পক্ষ থেকে পাঠানো ওই রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্র নিশ্চয়ই উত্তর দেবে’।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অবস্থানের ফলে নিরাপত্তা এজেন্সিগুলিকেও যে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সেকথাও স্বীকার করেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

উল্লেখ্য মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে গত কয়েকবছর ধরেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছে। তবে গত বছরের আগষ্টের শেষে নতুন করে সহিংসতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

বাংলাদেশে সবমিলিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৯ লাখের কাছাকাছি। অন্যদিকে ভারতে অবস্থান নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। যদিও দেশের নিরাপত্তার কারণেই রোহিঙ্গাদের ভারতে বসবাসের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়ে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

সরকারের তরফে পরিস্কার জানিয়ে দেওয়া হয় ‘রোহিঙ্গারা এদেশে শরণার্থী হিসাবে থাকতে পারবে না। রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় হুমকি’। কেন্দ্রের ওই নীতির সমালোচনা করেই রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা।

সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ