সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

বাংলা সাহিত্যে কবি নজরুল স্বপ্রতিভায় চির সমুজ্জ্বল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

এহসান বিন মুজাহির : আজ ২৭ আগস্ট কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক কবি কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি এক বিরল সাহিত্য ব্যক্তিত্ব । মৌলিক কাব্য-প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন বলেই এখনও তিনি যুগ প্রবর্তক কবি হিসেবে স্বীকৃত। বিদ্রোহী কবি বলে সমাধিক খ্যাত কবি নজরুলের মরমি কবিতা, অসংখ্য গজল,গান, হামদ-নাত, আজও পাঠক-শ্রোতাকে সমভাবে আপ্লুত করে রাখে । কাজী নজরুল যে বিশাল সাহিত্য ভান্ডার রচনা করেছেন তার তুলনা বিরল । তিনি যে কত বড় কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন তা বলে শেষ করা যাবে না । কাজী নজরুলকে বলা হয় চেতনা ও জাগরণের কবি।

আমাদের জাতীয় কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি, বিদ্রোহী কবি, তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল মুলত একজন কবি হলেও সাহিত্যের সব স্থরে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। নজরুল শুধু শিল্পী-সূরকার, গীতিকার, কবি, উপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, সম্পাদক ও আপোষহীন সৈনিকই নন ।

তিনি ছিলেন সেকালের শক্তিধর এক কলমযোদ্ধা। তাঁর লিখনীতে ফুটে ওঠেছে বিদ্রোহী মানুষের চাওয়া-পাওয়া। কবি তাঁর ক্ষুরধার লিখনীর মাধ্যমে অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। যা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক শক্তি ও তাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল বজ্রের ন্যায় কঠিন-'হিরার চেয়ে ধারালো। বাংলা সাহিত্যে কবি নজরুল স্বপ্রতিভায় চির সমুজ্জ্বল।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ২৫ মে, ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ্য১৩০৬ বাংলা জন্মগ্রহণ করেন। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুড়ুলিয়া গ্রামে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্প ও গান-গজল সব শাখাতেই বিচরণ ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। কেবল গানই সৃষ্টি করেছেন চারহাজারের কাছাকাছি।

এত গান পৃথিবীতে আর কোন কবি-গীতিকার লিখেছেন বলে আমাদের কাছে জানা নেই। গান ছাড়াও রয়েছে তার অজস্র ছড়া-কবিতা । লিখেছেন বেশ কিছু ছোট গল্প ও উপন্যস। লেখালেখির পাশাপাশি সুর সৃষ্টি ও সংগীত পরিচালনাও করেছেন তিনি ।

এমন কি চলচ্চিত্র পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি । নবযুগ, অর্থ সাপ্তাহিক, ধুমকেতু, লাঙল ইত্যাদি পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব ও পালন করেছেন । তিনি ছিলেন তৎকালীন যামানার কাঁটাভরা দুর্গম পথের এক নির্ভীক সাংবাদিকও।তিনি বড়দের জন্য লিখেছেন অনেক অনেক প্রবন্ধ-গল্প ও কবিতা। তাই বলে নজরুল ছোটদের ভুলে থাকেননি।নজরুল ছোটদের জন্য রেখে গেছেন শিশুসাহিত্যের এক সুবিশাল ভান্ডার।

কবির মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধাভরে কবিকে স্মরণ করছি এবং তাঁর ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহামহিমের দরবারে মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা কবিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন ।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ