বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


মা-বাবার স্বপ্নের হাত ধরে হাঁটছেন তিনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

 

আওয়ার ইসলাম : পুলিশের এএসপি হয়েছেন। মা-বাবা, স্বজন, গ্রামবাসীর আনন্দের শেষ নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে স্কুলশিক্ষক পিতা বলেছিলেন, ‘পুলিশে ভালো মানুষের দরকার আছে। মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করিস বাবা।’ পিতার সেই বাক্যটি অগ্নিমন্ত্রের মতোই কাজ করছে।

সেই আদর্শে অটুট থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মো. মনিরুজ্জামান। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন পুলিশবন্ধু। জঙ্গি, সন্ত্রাস দমনে একটি গৌরবের নাম মনিরুজ্জামান। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানাক্ষেত্রে রয়েছে তার পদচারণা। সাহিত্য, গবেষণা, দর্শন, আইন ও ইতিহাসের বইয়ে সমৃদ্ধ তার অফিসকক্ষ। সময় পেলেই বই থেকে জ্ঞান আহরণ করার চেষ্টা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

বিসিএস ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দিনটি ছিল ১৯৯৮ সালের ৩০শে জুন। ওইদিন ১৮তম বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ পায়। একটি পত্রিকায় নিজের রোল খুঁজতে গিয়ে বুকটা কাঁপছিলো। মুহূর্তের মধ্যেই রোল নম্বর খুঁজে পান। সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আব্বার স্বপ্ন সত্যি হলো। স্কুলশিক্ষকের সন্তান, নানা আর্থিক টানাপড়েনে অন্য আট-দশটা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই আমার বেড়ে ওঠা। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার আগেই প্রথম চেষ্টাতেই বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডারে চাকরি পেলাম।

এটা তো আমাদের মতো ছেলেদের জন্য আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। উত্তীর্ণ হওয়ার খবরটি ঢাকায় আত্মীয়-স্বজনদের জানালেন। কিন্তু মা-বাবাকে না জানানো পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিলেন না তিনি। তখন তো এরকম মোবাইলফোন ছিল না। তাই ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করলেন। গাবতলী থেকে রাতের বাসে যশোরে। সকাল তখন সাড়ে ৮টা।

পথেই পিতার সঙ্গে দেখা হয় মনিরুজ্জামানের। কিন্তু মুখে কিছুই বলতে পারেন না। পিতার মুখের দিকে তাকান। পুত্রকে দেখে পিতার চোখে-মুখে কেমন যেন আনন্দের ঝিলিক। পথেই পিতার পা ছুঁয়ে সালাম করলেন। নীরব সে মুহূর্তে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিলো। শিক্ষক পিতার আর বুঝতে বাকি নেই তার ছেলে সফল হয়েছে। নিজ থেকেই বললেন, সারাজীবন পরের ছেলেপুলে মানুষ করেছি। স্বপ্ন ছিল আমার ছেলেও একদিন বড় কিছু হবে।
তারপর পুত্রের হাত ধরে বাড়ির উদ্দেশে হাঁটতে থাকেন। মনিরুজ্জামান জানান, এরমধ্যেই খবর ছড়িয়ে গেছে গ্রামজুড়ে। স্কুলশিক্ষকের টিনশেড ঘরের সামনে তখন উপচেপড়া ভিড়। মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রামের মানুষ বিসিএস, সহকারী পুলিশ সুপার বা এএসপি বুঝে না। তাদের মুখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছিলো- মাস্টার সাহেবের ছেলে এসপি হয়েছে।

এআইজি মনিরুজ্জামান বলেন, সেদিন দেখেছি বাবা-মা,