
আওয়ার ইসলাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই সুপ্রিমকোর্টের সামনে লেডি জাষ্টিজ-এর মূর্তি স্থাপন ইসলামের উপর চরম আঘাত। সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সামনে সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা হিসেবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর নাম লিপিবদ্ধ আছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সুপ্রিমকোর্টের সামনেও কোন মূর্তি নেই। তাহলে বিশ্বের বিপুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সুপ্রিমকোর্টের সামনে গ্রীক দেবী লেডি জাস্টিস-এর মুর্তি কী উদ্দেশ্যে?
তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলিম সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংসের জন্যই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে দেবীমূর্তি স্থাপন ইসলামী সভ্যতা সংস্কৃতি ও মুসলমানদের ঈমান আকিদা পরিপন্থী। মূর্তি হলো গজব ও ধ্বংসের প্রতীক। ইতিহাস প্রমাণ করে ইতিপূর্বে যারা মূর্তির পেছনে পড়েছে এবং মূর্তির ভালবাসায় লিপ্ত হয়েছে তারা সকলেই নির্মমভাবে ধ্বংস হয়েছে। এদেশকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করার জন্যে একটি মহল ভাস্কর্যের নামে ঢাকাসহ সারাদেশে মূর্তি স্থাপন করছে। তিনি বলেন, ইসলাম এসেছে মূর্তি ধ্বংসের জন্য।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণ এবং শিক্ষানীতি নিয়ে নাস্তিক্যবাদী চক্রান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণের দাবিতে ১২ ফেব্রুয়ারি জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা জজের নিকট এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নিকট স্মরাকলিপি প্রদানের কর্মসুচী ঘোষণা করেন। এরপরও দাবি না মানলে কঠোর কর্মসুচি পালনের হুশিয়ারী দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, দক্ষিণ সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, উত্তর সেক্রেটারী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, শ্রমিকনেতা ঈমান উদ্দিন, ছাত্রনেতা শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।