শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৫ পৌষ ১৪৩২ ।। ২০ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই ভারতে এবার পশু চুরির অপবাদে মুসলিম ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের গাইডলাইন’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হাসনাতের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর একপক্ষীয় নির্বাচনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে: পীর সাহেব চরমোনাই সিরাজগঞ্জে রেললাইনে কাঠ দিয়ে জোড়াতালি আইনুল হক কাসিমীসহ গ্রেপ্তার আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ইসির শোকজ ‘ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে’ গুপ্ত রাজনীতির সুফল এখন ভোগ করছে একটি ছাত্র সংগঠন: নজরুল ইসলাম

রমজানের প্রথমদিন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

rikshaআবদুল্লাহ মারুফ : রমজানের প্রথমদিন ছিলাম প্রিয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে। সারাদিন থেকে তারাবির সময় নামাজ পড়াতে গিয়েছিলাম মসজিদে। কাকরাইল। 'দারুল উলূম কাকরাইল' মাদরাসা মসজিদ।

মালিবাগের কাছে হওয়ায় ইচ্ছে ছিলো প্রতিদিন মাদরাসায় চলে আসার। কিন্তু এখন দেখি সুযোগ হয়ে ওঠে না। তাই কাছে হলেও প্রতিদিন আসা যায় না। আজকে সেহরি খাওয়ার সময় পাকাপোক্ত নিয়ত করলাম মাদরাসায় যাবো। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ। বাবর ভাইকে বলে ফজরের আগেই রওয়ানা দিলাম মালিবাগের দিকে। একা একা। রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম গাড়ির জন্য। কিন্তু দূরপাল্লার ট্রাক ও প্রাইভেটকার ছাড়া সাধারণ কোন পরিবহন দেখা যাচ্ছে না এখন। কিছুক্ষণ বন্ধু পরিবন বা সুপ্রভাত এর জন্য অপেক্ষা করে বুঝলাম লাভ নেই। এখন দাঁড়িয়ে থাকা অনর্থক। ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোন গাড়ি অাসবে না। হেঁটেই যেতে হবে আমাকে। অবশ্য ঢাকা শহরে হেঁটে যাতায়াতই ভালো। আরামদায়ক। তাই হাঁটতে লাগলাম।

রাস্তায় অনেক পথচারীকে পেলাম। মাথায় টুপি পরিধান করে ধীরপদে এগিয়ে যাচ্ছেন মসজিদের দিকে। মুখে আল্লাহ আল্লাহ জিকির ধ্বনি। কারও হাতে আবার লম্বাদানার তসবিহ। দৃশ্যটা আমার খুব ভালো লাগলো। আরেকটু এগিয়ে দেখতে পেলাম আরও একটি চমৎকার দৃশ্য। কয়েকজন রিক্সচালক সেহেরি খাচ্ছে রিক্সায় বসে। সম্ভবত কলা দিয়ে 'চিড়া' খাচ্ছে। রিক্সার সিটে বসে পরম অানন্দে, তৃপ্তিসহকারে তাদের এই সেহরি খাওয়া সত্যিই উপভোগ্য। চালকদের অধিকাংশই যুবক। তরুণ। বয়স্ক একজন তাদের তাড়া দিচ্ছে তাড়াতাড়ি খানা শেষ করতে। তাদের সেহরি খাওয়ার এই দৃশ্যটা আমাকে আন্দোলিত করলো। ভাবালো। মন থেকে বেরিয়ে এলো, হে আল্লাহ! তাদের সময়ের মধ্যে বরকত দাও। আয়রোজগারে বরকত দাও।

মালিবাগ মাদরাসা মসজিদে ফজরের নামাজ পড়লাম। নামাজ শেষে আমাদের রুমে গেলাম। সহপাঠী অনেকেই মাদরাসায় থেকে বিভিন্নস্থানে তারাবিহ পড়াচ্ছে। তাদের সাথে কথোপকথন হলো। গল্পালাপ হলো। আমার খুব ভালো লাগলো। সত্যি কথা কি, রুমের দরজা দিয়ে যখন প্রবেশ করি, তখন এত্তো ভালো লেগেছিলো (!) বুঝানো সম্ভব নয়। শিশুরা যেমন মায়ের কোলে গেলে সব ক্লান্তি ভুলে যায়। ভুলে যায় সব কষ্টক্লেশ। আমারও তেমন হলো। মনে হলো মাতৃক্রোড় ফিরে এলাম। এখন আমি সবচেয়ে নিরাপদ। সবচেয়ে সুখী।

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম /এইচএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ