মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ.।।
শিক্ষাবর্ষ শেষে বিদায়ী দরসে পালনপুরী রাহ. ছাত্রদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান উপদেশ মূলক আলোচনা করতেন। সহজে বোঝানোর স্বার্থে প্রশ্ন-উত্তর আকারে একটি বিষয় আলোচনা করতেন। তিনি বলতেন, তোমাদেরকে কে পড়িয়েছে? এমন প্রশ্ন করলে তোমাদের অনেকে বলবে, আমার আব্বা পড়িয়েছেন৷ কেউ বলবে, উস্তাদরা পড়িয়েছেন৷ ঠিক আছে, বুঝলাম। উস্তাদরা কিভাবে পড়িয়েছেন?
তাদের তো মুহতামিম মাসিক ওজিফা- ভাতা দেন। তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে পড়ান৷ যদি তাদের বেতন ভাতা না দিত, তারা কি পড়াতেন? তারা এখানে কি কর্মক্ষেত্র গ্রহণ করতেন? হয়তো তারা অন্য কোন কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন৷ এ পর্যায়ে হয়তো ছাত্ররা উত্তর দিবে,
হ্যা,হ্যা, আমাদের মুহতামিম সাহেব পড়িয়েছেন৷
তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলি- মুহতামিম সাহেব কীভাবে পড়ালেন? তিনি তো মুসলিম জনসাধারণ থেকে চাঁদা করে ফান্ড তৈরি করে উস্তাদ , স্টাফদের মাসিক সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকেন৷ থাকা খাওয়ার এবং ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করেন।আর উস্তাদরা তোমাদের সিলেবাস অনুযায়ী পড়িয়ে থাকেন৷ মুসলিম জনসাধারণের দেয়া ৫-১০ টাকায় মাদ্রাসার ফান্ড হয়ে থাকে।এই ফান্ডের মাধ্যমে যথাযথ চাহিদা মোতাবেক বন্টন করে মাদরাসা চালান মুহতামিম সাহেব৷
যদি মুসলিম জনসাধারণ চাঁদা না দিতেন, মুহতামিম সাহেব তোমাদের পড়াশোনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক স্টাফবৃন্দকে কিভাবে পরিচালনা করতেন ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকবৃন্দের বিশাল ব্যয় কোত্থেকে বহন করতেন?
এভাবে প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে ছাত্রদের সামনে একটি বাস্তব বিষয় ফুটে উঠে। এ পর্যায়ে মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহিমাহুল্লাহ বলতেন-
দেখো! বাস্তবে তোমাদের পড়ালেখার মৌলিক বিষয় টি জোগান দিয়েছেন, মুসলিম মিল্লাত- মুসলিম জনসাধারণ ৷ তাদের দানকৃত পয়সায় তৈরি করে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাদের দানে মুহতামিম সাহেব উস্তাদ স্টাফদের ব্যয় বহন করেন। তাদের দান থেকে বেতন ভাতা, বিল, কর ইত্যাদি দিচ্ছেন৷ তোমাদের পড়ালেখা বই-পুস্তক খাবার দাবার অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সকল খরচ করে যাচ্ছেন।
এখন প্রথমত: দেখার বিষয় হল,তোমরা মিল্লাতের দানের টাকায় নিজেকে কতটুকু দ্বীনের খেদমতের জন্য প্রস্তুত করেছো? অর্থাৎ কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করেছ?
দ্বিতীয়তঃ প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া থেকে ফারেগ হয়ে মুসলিম