শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: জমিয়ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন স্থানে নৈতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির; এর সঙ্গে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা বা কোনো মাদরাসা প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার অধিবেশনে নেতারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী ও মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।

অধিবেশনে নেতারা বলেন, কোনো মাদরাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অভিযোগের অজুহাতে কোনো মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

তারা বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে আবেগ, গুজব কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তারা কোনো অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করেন না। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

এ সময় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জমিয়ত নেতারা বলেন, অভিযোগের নামে দেশের কোনো মাদ্রাসায় যাতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর বিচার হতে হবে, কিন্তু কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কিংবা একটি বৃহৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ